ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক চলছে: যুদ্ধ থামবে নাকি নতুন সংঘাতের সূচনা
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই বৈঠকের ফলাফলই ঠিক করবে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে নাকি নতুন করে সংঘাত শুরু হবে।
গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আলোচনার আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলাদা আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গভীর বিরোধ দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান সেখানে নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের প্রস্তাব তুলেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা হোক। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হওয়ায় এই ইস্যু বৈশ্বিক তেল বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেপি ভেন্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আগেই সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের কৌশল বা অসততা আলোচনায় গ্রহণযোগ্য হবে না, তবে আন্তরিকতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রও নমনীয় থাকতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিব প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালিসহ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কাঠামো নতুনভাবে সাজানো হবে।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের মতো কঠোর শর্ত আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, তবে তাদের ভূমিকা মূলত সমন্বয়মূলক—চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা সীমিত। তবুও ইসলামাবাদের এই উদ্যোগকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ সংকট, লেবানন ইস্যু এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা শুরু হওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই বৈঠক শান্তির পথ খুলে দিতে পারে, আবার ব্যর্থ হলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ