‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

ব্রিটেনে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, লিটার প্রায় £২

ব্রিটেনে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, লিটার প্রায় £২

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৯ সেপ্টেম্বর :

ব্রিটেনে ডিজেলের দাম আবারও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার প্রকাশিত RAC-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে পাম্পে ডিজেলের গড় দাম এখন প্রতি লিটার ১৯৯.১৮ পেন্স, অর্থাৎ প্রায় £২। এর মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের সময় তৈরি হওয়া আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে ডিজেলের সর্বোচ্চ গড় দাম ছিল ১৯৯.০৯ পেন্স প্রতি লিটার, যা ২০২২ সালের জুনে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার সময় দেখা গিয়েছিল। নতুন দাম সেই রেকর্ডের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এক ট্যাংক ভরতেই প্রায় £১১০

RAC জানিয়েছে, এখন একটি গড় পরিবারের ডিজেলচালিত গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করতে প্রায় £১১০ খরচ হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় একই পরিমাণ জ্বালানি ভরতে এখন প্রায় £৩১ বেশি খরচ হচ্ছে। ওই সময় ডিজেলের গড় দাম ছিল ১৪২.৩৮ পেন্স প্রতি লিটার। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৫৬.৮ পেন্স।

শুধু ডিজেল নয়, পেট্রোলের দামও দ্রুত বাড়ছে। সোমবার unleaded petrol-এর গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৭৪.১৩ পেন্স প্রতি লিটার। ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় এটি প্রায় ৪১ পেন্স বেশি। গড়ে একটি পেট্রোল গাড়ির ট্যাংক পূরণ করতেও এখন প্রায় £৯৬ লাগছে।

কেন এত বাড়ছে জ্বালানির দাম?

বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহকে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেও আন্তর্জাতিক পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের বাজারে এই চাপ বেশি অনুভূত হচ্ছে।

শুধু গাড়ির মালিকের সমস্যা নয়

ডিজেলের দাম বাড়লে প্রভাব শুধু গাড়ির চালকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্রিটেনের পণ্য পরিবহনের বড় অংশ ডিজেলচালিত লরি ও ভ্যানের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ও ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে তার একটি অংশ শেষ পর্যন্ত খাদ্য, পোশাক, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামে যুক্ত হতে পারে। RAC-এর নীতিবিষয়ক প্রধান সাইমন উইলিয়ামসও সতর্ক করেছেন, ডিজেলচালিত লরি ও ভ্যানের ব্যয় বাড়লে সেই অতিরিক্ত খরচ ভোক্তাদের ওপর চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিছু পাম্পে দাম £২ ছাড়িয়ে গেছে

জাতীয় গড় এখনো ২০০ পেন্সের সামান্য নিচে থাকলেও দেশের কিছু এলাকায় ডিজেলের দাম ইতোমধ্যে £২ ছাড়িয়ে গেছে। The Guardian-এর প্রতিবেদনে স্কটল্যান্ডের পার্থশায়ারের একটি BP সার্ভিস স্টেশনে ২৩ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম £২.১৭ প্রতি লিটার দেখানো হয়েছিল। অর্থাৎ অঞ্চল ও সার্ভিস স্টেশনভেদে চালকদের প্রকৃত খরচ জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

সরকার কী করতে পারে?

RAC-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক তেলের দাম কম না হলে পাম্পে জ্বালানির দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা সীমিত। সংস্থাটি চালকদের ওপর চাপ কমাতে সরকারকে ফুয়েল ডিউটি আরও কমানো অথবা ভ্যাট কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে সরকারের জন্য বিষয়টি সহজ নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মূলত ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারেই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

সামনে আরও বাড়তে পারে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি লিটার ডিজেল £২ পার করা এখন আর দূরের বিষয় নয়—এমন আশঙ্কা বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের ওপর। The Independent জানিয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জাতীয় গড় দাম প্রথমবারের মতো ২০০ পেন্স অতিক্রম করতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত সাপ্তাহিক জ্বালানি পরিসংখ্যানও নিয়মিতভাবে পাম্পের গড় মূল্য প্রকাশ করে; সর্বশেষ সরকারি ডেটাসেটটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।