‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

অতিরিক্ত স্ক্রিনে শিশুদের পড়াশোনা ও ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব

অতিরিক্ত স্ক্রিনে শিশুদের পড়াশোনা ও ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৮ সেপ্টেম্বর :

শিশুদের দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন, টেলিভিশন, গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে পড়াশোনা, ভাষা বিকাশ ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে তুলনামূলক খারাপ ফলাফলের সম্পর্ক রয়েছে বলে বড় একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।

জার্নাল JAMA Pediatrics-এ প্রকাশিত গবেষণাটি ৬৪টি দেশের ২৮ লাখের বেশি শিশুর তথ্য নিয়ে করা হয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির নেতৃত্বে গবেষকেরা আগের বিভিন্ন বড় গবেষণার ফল একত্র করে এই বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, বেশি সময় স্ক্রিনে কাটানো শিশুদের সামগ্রিক শিক্ষাগত ফল তুলনামূলক কম এবং ভাষা বিকাশেও পিছিয়ে থাকার প্রবণতা রয়েছে। একই সঙ্গে আবেগগত সমস্যা, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্যা, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো অভ্যন্তরীণ মানসিক সমস্যার পাশাপাশি আগ্রাসী আচরণ ও মনোযোগ ঘাটতির লক্ষণের সঙ্গেও বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকেরা সরাসরি বলেননি যে স্ক্রিনই এসব সমস্যার একমাত্র কারণ। গবেষণাটি মূলত স্ক্রিন ব্যবহারের মাত্রা ও শিশুদের বিভিন্ন ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করেছে।

গবেষণায় গণিত, পড়া ও বিজ্ঞানে স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ফলাফলের সম্পর্ক স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা তুলনামূলক কম হওয়ায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

বিশেষজ্ঞদেরও সতর্কতার সঙ্গে ফলাফল ব্যাখ্যা করার পরামর্শ রয়েছে। স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব জারাগোজার সমাজবিজ্ঞানী তাতিয়ানা ইনিগুয়েজ বেরোজপে বলেন, স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাগত ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে ছোট। অন্যদিকে লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এসথার ভ্যান স্লুইজ বলেন, গবেষণাটি উচ্চমানের হলেও কোন ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার—গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নাকি অন্য কোনো কার্যক্রম—কতটা প্রভাব ফেলছে, তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

গবেষকদের মতে, শিশুদের সুস্থ বিকাশের ক্ষেত্রে স্ক্রিন ব্যবহারের মাত্রা একটি পরিবর্তনযোগ্য বিষয়। তাই শিশুদের ডিজিটাল ব্যবহারের সময় ও ধরন নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।