‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ব্রিটেনে তীব্র গরমে স্কুলের সময় ও পরীক্ষার সূচি বদলানোর প্রস্তাব
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ১১ অক্টোবর : ব্রিটেনে তাপপ্রবাহের কারণে স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্কুল শুরুর সময়, গ্রীষ্মের ছুটি এবং পরীক্ষার সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় শিক্ষা ইউনিয়নের (এনইইউ) সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল কেবেডে।
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন স্কুলে তীব্র গরমের কারণে শিক্ষাকার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। গরমের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা বা আগেভাগে ছুটি দেওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়।
কেবেডে বলেছেন, ব্রিটেনের অনেক স্কুল ভবন এমন সময় তৈরি হয়েছিল, যখন বর্তমানের মতো তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রয়োজন ছিল না। ফলে এসব ভবনে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, ছায়া এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। তাঁর মতে, পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার করে গরমের উপযোগী করতে সরকারকে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্কুলের দৈনন্দিন সময়সূচি নিয়েও নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গরমের দিনে সকালে ক্লাস শুরু করে আগেভাগে শেষ করা, গ্রীষ্মের ছুটির সময় পুনর্বিন্যাস এবং বছরের সবচেয়ে গরম সময়ে পরীক্ষা না রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এই শিক্ষা ইউনিয়ন নেতা।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু শিক্ষার্থীদের শারীরিক অস্বস্তিই বাড়ায় না, তাদের মনোযোগ ও শেখার সক্ষমতাও ব্যাহত করতে পারে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক—উভয়কেই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পরও যেসব শিশু অতিরিক্ত গরম ঘরে থাকে, তাদের বিশ্রাম ও স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।
কেবেডের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো, তাপপ্রবাহের সময়েও স্কুলে নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা। তবে স্কুলের সময়, ছুটি কিংবা পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে এগুলো এখনো প্রস্তাব ও আলোচনার বিষয়; সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য নেই।