ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ‘গভীর ক্ষতি’ করেছে : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ‘গভীর ক্ষতি’ করেছে : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৪ এপ্রিল:

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের অর্থনীতিতে “গভীর ক্ষতি” ডেকে এনেছে। একই সঙ্গে তিনি এমন একটি পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন, যার মাধ্যমে মন্ত্রীরা সংসদের স্বাভাবিক ভোটাভুটি ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম গ্রহণ করতে পারবেন।

স্টারমার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যকে বাস্তববাদী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড ও বিধিনিষেধ গ্রহণ করতে পারবে, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমে এবং সীমান্তে বিলম্ব হ্রাস পায়। বিশেষ করে খাদ্যমান, পণ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নীতিমালার মতো খাতে এই ধরনের সমন্বয় অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে। বিরোধীরা বলছেন, সংসদের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে এবং ব্রেক্সিটের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্টারমার এসব সমালোচনার জবাবে বলেন, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে একটি বাস্তবসম্মত সমঝোতা। তাঁর ভাষায়, “আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হচ্ছি না, কিন্তু যেখানে আমাদের অর্থনীতি উপকৃত হয়, সেখানে সহযোগিতা করা যুক্তিযুক্ত।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে আংশিক সামঞ্জস্যতা কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি আনতে পারে।