হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ, জাহাজ ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ, জাহাজ ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভয়েস অব পিপল | আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালীতে কার্যত অবরোধ শুরু করায় ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই উপকূল থেকে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘রিচ স্টারি’ নামের একটি ট্যাংকার প্রণালীর কাছে পৌঁছেই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ায়। একইভাবে ‘অস্ট্রিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সোমবার থেকে এই অবরোধ কার্যকর করে এবং ঘোষণা দেয়—ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব দেশের জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছাকাছি আসা যেকোনো জাহাজকে “তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।”

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই পথ বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অবরোধ ভবিষ্যতে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে খাদ্য, ওষুধসহ মানবিক সহায়তার পণ্য কঠোর তল্লাশির মাধ্যমে চলাচলের অনুমতি পাবে।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা, উত্তেজনা বাড়ছে

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের “লাল দাগ” স্পষ্ট করে দিয়েছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা তেহরানের। যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে দুটি বিষয়ে অনড়—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বন্ধে কঠোর নজরদারি।

এদিকে যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ভ্যাটিকানের উত্তেজনাও বেড়েছে। ক্যাথলিক চার্চপ্রধান পোপ লিও যুদ্ধকে অমানবিক বলে সমালোচনা করলে ট্রাম্প তাকে “দুর্বল” বলে আখ্যা দেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভ্যান্স বলেন, ভ্যাটিকানের উচিত নৈতিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকা।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে বিশ্ব নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই অবরোধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যা পশ্চিমা জোটের মধ্যেও মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসেও যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সিনেটের নেতা জন থুনে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব কমিয়ে আনা হতে পারে এবং এই বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রতিবাদ ও অভ্যন্তরীণ চাপ

চেলসা মেইনিং নিউইয়র্কে যুদ্ধবিরোধী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হয়েছেন। তিনি এর আগে গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসেন এবং কয়েক বছর কারাভোগও করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই নতুন অবরোধ কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনাই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থির করে তুলতে পারে।