স্টারমারকে ‘অযোগ্য’ আখ্যা: ম্যান্ডেলসন ভেটিং কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তীব্র ঝড়

স্টারমারকে ‘অযোগ্য’ আখ্যা: ম্যান্ডেলসন ভেটিং কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তীব্র ঝড়

লন্ডন: ১৯ এপ্রিল: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে দেশ পরিচালনার জন্য “অযোগ্য” এবং নৈতিকভাবে শাসন করার অধিকার হারানো একজন নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক। পিটার ম্যান্ডেলসনের নিরাপত্তা যাচাই (ভেটিং) সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

Conservative Party Leader Kemi Badenoch

দ্য মেইল অন সানডে-তে লেখা এক কঠোর ভাষার নিবন্ধে ব্যাডেনক অভিযোগ করেন, স্টারমার এখন নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত, আর এতে জাতীয় নিরাপত্তা পর্যন্ত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “এই ভণ্ডামি অবিশ্বাস্য… তিনি জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন।”

Business Secretary Lord Mandelson

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্টারমারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ অপেক্ষা করছে। পার্লামেন্টে (কমন্স) তার বক্তব্যে তিনি আবারও দাবি করবেন যে, ম্যান্ডেলসনের নিরাপত্তা যাচাই ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না। তবে একই সঙ্গে তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার অলি রবিনসকে বরখাস্ত করেছেন, যিনি এই ভেটিং সিদ্ধান্ত বাতিলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এদিকে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্যার অলি রবিনস পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক বৈঠকে প্রথমবারের মতো নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেন—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

নতুন করে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ২০২৩ সালেই ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্টারমারের দলের কাছে একটি বিস্তারিত ডসিয়ার দিয়েছিল, যেখানে ম্যান্ডেলসনের রাশিয়ার সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগ এবং কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। এতে স্টারমারের “আমি জানতাম না” দাবি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, এই ব্রিফিং শুধু একবার নয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। তাদের মতে, “স্টারমারের এই নিয়োগের ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কোনো সুযোগই ছিল না।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো একযোগে চাপ বাড়াচ্ছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি ম্যান্ডেলসন সংক্রান্ত ক্যাবিনেট অফিসের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ারও স্টারমারের পদত্যাগের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে, সাবেক লেবার মন্ত্রী গ্রাহাম স্ট্রিংগার মন্তব্য করেছেন, “স্টারমারের নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

ডাউনিং স্ট্রিট এখনো দাবি করছে, ম্যান্ডেলসনের ভেটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত এককভাবে স্যার অলি রবিনস নিয়েছিলেন। তবে এই ব্যাখ্যা অনেকেই গ্রহণ করছেন না। এমনকি সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক লর্ড সাইমন ম্যাকডোনাল্ড অভিযোগ করেন, দ্রুত কাউকে দায়ী করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, যেমন—তার সাবেক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে একান্তে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা। তবুও এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

এদিকে, সরকার বিরোধী দলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে ম্যান্ডেলসনের সরকারি পেনশন বাতিলের জন্য আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারি এখন স্টারমার সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। এই সংকট তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।