তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
লন্ডনে জেলেনস্কি, ইউক্রেনকে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৪ অক্টোবর : রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির লন্ডন সফর উপলক্ষে দেশটিকে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহ করা হবে, যাতে রাশিয়ার ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো যায়।
বুধবার ১৪ অক্টোবর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। এর আগে তিনি বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রাশিয়ার অব্যাহত হামলার মধ্যে ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করাই ছিল এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য আগে ঘোষিত ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আগামী চার বছরে ৫ হাজারের বেশি হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর একটি অংশ দ্রুত পাঠানো হবে। রাশিয়ার জেটচালিত ড্রোনের হামলা ঠেকাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
বৈঠকে জেলেনস্কি স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংক এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সাম্প্রতিক সমস্যার বিষয়েও আলোচনা করতে চান বলে জানান। ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এসব প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের এই সমর্থন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু দেশটির জন্য নয়, ইউরোপের শান্তি এবং যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন। রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে সহায়তাকারী সামুদ্রিক পরিষেবার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং ইউক্রেনের জন্য সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যসংক্রান্ত সমঝোতা নিয়েও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন বার্নহ্যাম।
জেলেনস্কির এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি শীতকালীন জ্বালানি ও অবকাঠামো নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। যুক্তরাজ্যের নতুন সামরিক সহায়তা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে অস্ত্র সরবরাহের গতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহারের ওপর।