তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ইস্ট লন্ডনের কাশিমের বিরুদ্ধে মেকআপ দিয়ে অসুস্থতার ভান করে ৫ সরকারি চাকরির অভিযোগ

ইস্ট লন্ডনের কাশিমের বিরুদ্ধে মেকআপ দিয়ে অসুস্থতার ভান করে ৫ সরকারি চাকরির অভিযোগ

লন্ডন, ১৪ অক্টোবর : অসুস্থতার ভান করতে মুখে সাদা মেকআপ, একসঙ্গে পাঁচটি পূর্ণকালীন সরকারি চাকরি এবং প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ড আয়ের অভিযোগ—এমনই এক চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার চলছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। অভিযুক্ত কাশিম চৌধুরী (৫৫) পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, স্কাই নিউজ ও আইটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় বিভিন্ন সময়ে চাকরি করেছেন কাশিম। অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি একই সঙ্গে পাঁচটি পূর্ণকালীন পদে কর্মরত ছিলেন। এসব চাকরি থেকে তাঁর আয় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

অসুস্থতার অভিনয়ে মেকআপ!

মামলার শুনানিতে উঠে এসেছে ২০২৩ সালের একটি ভিডিও বৈঠকের ঘটনা। যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিতে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলিশা অ্যাডামস একটি অনলাইন বৈঠকের আয়োজন করেন।

অভিযোগপক্ষের দাবি, বৈঠকে কাশিমকে কাশতে ও নাক ঝাড়তে দেখা যায়। তাঁর মুখের রং ছিল অস্বাভাবিক সাদা, অথচ ঘাড়ের রং ছিল স্বাভাবিক। একপর্যায়ে কপালের মেকআপ খসে পড়তে শুরু করলে নিচের প্রকৃত ত্বক দৃশ্যমান হয়।

মামলার কৌঁসুলি লুসি অর্গান আদালতে বলেন, অসুস্থতার ভান করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করানোর জন্যই অভিযুক্ত মুখে মেকআপ লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগপক্ষ মনে করে। ওই সময় তিনি একাধিক চাকরি থেকে বেতন পাচ্ছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

সপ্তাহে ১৮৩ ঘণ্টার চাকরি!

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পাঁচটি চাকরির চুক্তি অনুযায়ী কাশিমের সপ্তাহে মোট ১৮৩ ঘণ্টা কাজ করার কথা ছিল। অথচ এক সপ্তাহে মোট ১৬৮ ঘণ্টা।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চাকরি শুরু করেন তিনি। ২০২১ সালের এপ্রিলে যোগ দেন পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগে (ডেফরা)। পরে ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ট্রাস্টসহ আরও কয়েকটি সরকারি বিভাগ ও সংস্থায় কাজ করেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগ, ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগ, খাদ্যমান সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগপক্ষের ভাষ্য, একাধিক চাকরির তথ্য গোপন রেখে নিয়োগ নেওয়ার পাশাপাশি কাজের চাপ সামলাতে তিনি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিতেন, অথচ অন্য চাকরিতে কাজ চালিয়ে যেতেন। বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগও তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তথ্য যাচাইয়ে সামনে আসে অভিযোগ

সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় ও যাচাইয়ের উদ্যোগ ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত অসংগতি শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি ডেফরার নজরে আসে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে তাঁর একাধিক চাকরির তথ্য সামনে আসে।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডেফরায় তাঁর কাজের মান ও কর্মদক্ষতা নিয়েও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপত্তি ছিল। তবে এসব অভিযোগ ও কর্মক্ষেত্রের মূল্যায়ন নিয়ে মামলার বিচার চলমান।

কাশিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতারণার নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অসৎভাবে কাজ করা কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার বিচার চলছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।