তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তা, বাড়তি কর বা ব্যয় সংকোচনের পথে যুক্তরাজ্য

বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয়ে সহায়তা, বাড়তি কর বা ব্যয় সংকোচনের পথে যুক্তরাজ্য

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৪ অক্টোবর : জীবনযাত্রার ব্যয় ও শীতের জ্বালানি বিলের চাপ সামলাতে নতুন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। তবে এ সহায়তার অর্থ জোগাতে নতুন করে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে কর বৃদ্ধি অথবা সরকারি ব্যয় কমানোর পথ বেছে নিতে পারেন অর্থমন্ত্রী জন হিলি। আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতকালে জ্বালানি বিল পরিশোধে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আগামী জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জ্বালানিতে ৩ পেনি এবং মার্চে আরও ২ পেনি শুল্ক বাড়ানোর পূর্বপরিকল্পনা বাতিল হতে পারে। তবে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি।

অর্থমন্ত্রী জন হিলির প্রথম বার্ষিক বাজেটের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো পরিবারের ব্যয় সামলানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে দৈনন্দিন সরকারি ব্যয় কর রাজস্ব দিয়ে মেটানো এবং মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কমানো। নতুন ব্যয়বহুল কর্মসূচি ঘোষণা করলেও এই আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে চায় সরকার।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজেটের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের আর্থিক পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলেছে। ফলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেটিও বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের সাধারণ পরিবার, পেনশনভোগী এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজেটের সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সহায়তা বাড়লে শীতের ব্যয় সামলাতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। অন্যদিকে, কর বৃদ্ধি বা সরকারি ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার প্রভাব নির্ভর করবে কোন কর বাড়ানো হচ্ছে, কোন খাতে ব্যয় কমানো হচ্ছে এবং কারা সহায়তা পাচ্ছেন তার ওপর।

উল্লেখ্য, শীতকালীন জ্বালানি বিলের জন্য যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই কিছু সহায়তা চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো নির্ধারিত শর্তে ১৫০ পাউন্ডের ওয়ার্ম হোম ডিসকাউন্ট পেতে পারে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ সালের শীতের জন্য যোগ্য পেনশনভোগীদের ১০০ থেকে ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত উইন্টার ফুয়েল পেমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন বাজেটে অতিরিক্ত সহায়তা ঘোষণা করা হলে তার যোগ্যতা ও পরিমাণ সরকারিভাবে প্রকাশের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সরকার কতটা সহায়তা দিচ্ছে এবং সেই অর্থের সংস্থান করতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।