‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

দেশে ইদানিং পানির নিচ দিয়ে ঢুকছে ইয়াবা, এক চালানে ৩০ লাখের সক্ষমতা

দেশে ইদানিং পানির নিচ দিয়ে ঢুকছে ইয়াবা, এক চালানে ৩০ লাখের সক্ষমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৫ অক্টোবর :

সীমান্তে নজরদারি এড়াতে এবার পানির নিচ দিয়ে ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশল নিয়েছে মাদক কারবারিরা। কাঠের তৈরি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার ব্যবহার করে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ইয়াবা আনা হচ্ছে। একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহনে সক্ষম এমন একটি ক্যারিয়ার উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে মাদক চোরাচালানের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় সোমবার রাতে পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং পাচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফে বিজিবির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় একটি ঘেরের পাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি দেখে টহল দল অভিযান চালায়। পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা পাচারের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই রাতে বালুখালী সীমান্ত ফাঁড়ির আওতায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে আটক হন আরও একজন।

উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, নয়টি কপিকল, একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি। বিজিবির ভাষ্য, মোটর ও তারের সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে ক্যারিয়ারটি টেনে নেওয়া হতো। নাফ নদী পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত এটি নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

বিজিবির দাবি, ক্যারিয়ারটির একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা বহনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই সক্ষমতা মানেই যে প্রতিবার এত পরিমাণ ইয়াবা আনা হয়েছে, তা নয়।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় নৌকার সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে ইয়াবা টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সীমান্তে প্রচলিত পথে পাচার কঠিন হয়ে উঠলে মাদক কারবারিরা বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

বিজিবির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আটক করা হয়েছে ২২৮ জনকে।

মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পরও নতুন কৌশলে পাচারের চেষ্টা বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে: সীমান্তে মাদক জব্দের পাশাপাশি দেশের ভেতরে এর সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে?

ইয়াবার বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি তরুণদের স্বাস্থ্য, পরিবার এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। তাই সীমান্তে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি পাচারের অর্থের উৎস, দেশীয় সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং অভ্যন্তরীণ বিতরণব্যবস্থা শনাক্ত করাও জরুরি।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদক পাচার ঠেকাতে সীমান্তে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এখন দেখার বিষয়, পানির নিচে লুকানো এই নতুন পাচারপদ্ধতি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।