যুক্তরাজ্যে ই-বাইক ডেলিভারি রাইডারদের বেপরোয়া চলাচলে উদ্বেগ, পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাজ্যে ই-বাইক ডেলিভারি রাইডারদের বেপরোয়া চলাচলে উদ্বেগ, পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

লন্ডন, ১৬ জুন: অনলাইন খাবার সরবরাহ সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের শহরগুলোতে ই-বাইক ব্যবহারকারী ডেলিভারি রাইডারদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তবে এই সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থাই এখন জননিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় ই-বাইক চালকদের বেপরোয়া গতি, ফুটপাথ ব্যবহার এবং চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।

সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ডেলিভারি রাইডার নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে সাইকেল লেনে চলাচল করছেন। শুধু তাই নয়, সময় বাঁচানোর জন্য কেউ কেউ পথচারীদের জন্য নির্ধারিত ফুটপাথেও উঠে যাচ্ছেন। ফলে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং প্রতিবন্ধী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

লন্ডনের কয়েকটি ব্যস্ত সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খাবার সরবরাহের চাপ এবং দ্রুত ডেলিভারি সম্পন্ন করার প্রতিযোগিতার কারণে অনেক রাইডার ট্রাফিক নিয়ম উপেক্ষা করছেন। লাল বাতি অমান্য করা, বিপরীতমুখী পথে চলা এবং মোবাইল স্ক্রিনে ডেলিভারির নির্দেশনা দেখতে দেখতে বাইক চালানোর ঘটনাও চোখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, অনেক সময় ই-বাইক এত দ্রুতগতিতে ফুটপাথ দিয়ে চলে যে পথচারীরা সরে যাওয়ার সুযোগও পান না। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল ও শপিং এলাকার আশপাশে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-বাইক প্রযুক্তিগতভাবে পরিবেশবান্ধব এবং নগর পরিবহনের একটি কার্যকর মাধ্যম হলেও এর ব্যবহারে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বর্তমানে অধিকাংশ বৈধ ই-বাইকের জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন না হলেও উচ্চগতির কিছু পরিবর্তিত বা অবৈধ ই-বাইক রাস্তায় চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব যানবাহন অনেক সময় মোটরসাইকেলের সমান গতিতে চলতে সক্ষম।

পরিবহন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ডেলিভারি অ্যাপভিত্তিক কর্মসংস্থানের কাঠামোও সমস্যার একটি কারণ। অনেক রাইডার প্রতি ডেলিভারির ভিত্তিতে আয় করেন। ফলে যত বেশি অর্ডার সম্পন্ন করা যায়, তত বেশি আয় হয়। এই অর্থনৈতিক চাপই অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ডেলিভারি কোম্পানিগুলো বলছে, তারা নিয়মিত নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়। তবে সমালোচকদের দাবি, শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না; বাস্তবে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।

পথচারী অধিকার সংগঠনগুলো সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, অবৈধভাবে পরিবর্তিত ই-বাইকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে হবে, ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর বাড়তি দায়িত্ব আরোপ করতে হবে এবং শহরাঞ্চলে ই-বাইক ব্যবহারের জন্য আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-বাইক আধুনিক নগর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই পরিবেশবান্ধব পরিবহনের সুবিধা বজায় রাখার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।