টোরিদের অভিযোগ: অর্থের উৎস না দেখিয়ে দ্রুত নীতি ঘোষণা করছে সরকার

বার্নহামের সামাজিক সেবা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় ২২ বিলিয়ন পাউন্ড খরচের আশঙ্কা

বার্নহামের সামাজিক সেবা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় ২২ বিলিয়ন পাউন্ড খরচের আশঙ্কা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২ আগস্ট: 

যুক্তরাজ্যে সামাজিক সেবা (Social Care) খাতে কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র ও লেবার রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহামের প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি।

টোরি নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারের মতোই পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা না করে দ্রুত একটি ব্যয়বহুল নীতি ঘোষণা করার ভুল করছেন। তাদের দাবি, সামাজিক সেবা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও এর অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি।

বার্নহামের প্রস্তাব অনুযায়ী, সামাজিক সেবা খাতে কর্মরত লাখো কর্মীর বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে কর্মী সংকট, কম বেতন এবং উচ্চ কর্মী পরিবর্তনের হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধি হলে এই খাতে নতুন কর্মী আকৃষ্ট করা এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা সহজ হতে পারে।

তবে বিরোধীদের দাবি, এমন বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির আগে সরকারের উচিত ছিল পূর্ণাঙ্গ আর্থিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা। টোরিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক চাপের সময়ে নতুন ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করতে পারে।

সরকারপন্থীরা অবশ্য বলছেন, সামাজিক সেবা খাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। তাদের মতে, কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিলে সেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

যুক্তরাজ্যের সামাজিক সেবা ব্যবস্থা বহু বছর ধরে অর্থ সংকটের মুখে রয়েছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের যত্নে নিয়োজিত কর্মীদের বড় অংশই কম বেতন ও কঠিন কর্মপরিবেশের কারণে পেশা ছাড়ছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে সামাজিক সেবা খাতে অর্থায়ন, করনীতি এবং জনকল্যাণমূলক ব্যয় নিয়ে লেবার সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।