‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ইংল্যান্ডে পানির মজুত তলানিতে, ছয় এলাকায় খরার সতর্কতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, লন্ডন:
দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি ইংল্যান্ডের পানির মজুতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্নওয়াল, ডেভন, ডরসেট, সমারসেট, ইস্ট সাসেক্স ও ওয়েস্ট সাসেক্স—এই ছয় এলাকায় তীব্র খরা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। পানির উৎসগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে আগামী মাসগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আপাতত এসব এলাকায় ঘরবাড়িতে পানির সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ বছরের দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার হয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রায় ৮২ শতাংশ এলাকা খরার আওতায় রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে নদী, ভূগর্ভস্থ পানির উৎস এবং জলাধারগুলোতে পানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পানির সংকটের চিত্র স্পষ্ট ওয়েস্ট সাসেক্সের আরডিংলি ও সমারসেটের উইম্বলবল জলাধারে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জলাধার দুটিতে পানির পরিমাণ ধারণক্ষমতার যথাক্রমে প্রায় ১৯ ও ১৬ শতাংশে নেমেছে। অথচ বছরের এই সময়ে সাধারণত এগুলো প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণ থাকে। আরডিংলি জলাধারের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জন্য পরিস্থিতিটি বিশেষ উদ্বেগের।
খরা মোকাবিলায় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি পরিকল্পনা জোরদার এবং পানির মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় বাগানে পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া ও গাড়ি ধোয়ার মতো কাজে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে বাসাবাড়ির জন্য পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, কিছু এলাকায় পানির মজুত পুনরুদ্ধারে আগামী ছয় মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১২০ শতাংশ বৃষ্টিপাত প্রয়োজন হতে পারে। ফলে শুধু সাময়িক বৃষ্টি নয়, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির উন্নতি। খরার প্রভাব কৃষিতেও পড়ছে—সেচের ব্যয় বাড়তে পারে, ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নদীর পানির স্তর কমে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল বিপন্ন হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের পানি ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কলের ফুটো মেরামত, গোসলের সময় কমানো এবং বাগানে অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে পানির অপচয় কমানো সম্ভব। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন হতে পারে, যদিও দেশজুড়ে পানির রেশনিং চালুর কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
ইংল্যান্ডের বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল খরার ঘোষণা নয়; এটি পানির মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা কতটা দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতার চাপ সামলাতে পারে, তারও পরীক্ষা। আগামী কয়েক মাসে বৃষ্টিপাত এবং জলাধারের পানির স্তরই নির্ধারণ করবে সংকট কতটা দ্রুত কাটবে।