ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

লন্ডনে কাউন্সিল ট্যাক্স ২ হাজার পাউন্ড ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাঙালি পরিবার

লন্ডনে কাউন্সিল ট্যাক্স ২ হাজার পাউন্ড ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাঙালি পরিবার

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৭ অক্টোবর :

লন্ডনের অধিকাংশ বরোতে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে কাউন্সিল ট্যাক্স উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এতে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামের বাসিন্দাদের মধ্যেও বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে দুই বরোর কর বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাজধানীর প্রায় সব বরোর গড় ব্যান্ড ডি পরিবারের বার্ষিক কাউন্সিল ট্যাক্স ২ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। একমাত্র টাওয়ার হ্যামলেটসের বিল এই সীমার সামান্য নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর আর্থিক সংকট, সামাজিক পরিচর্যা ও অস্থায়ী আবাসনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কর বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের কাউন্সিলগুলোর সম্মিলিত অর্থায়ন ঘাটতি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যান্ড ডি বাড়ির কাউন্সিলের নিজস্ব অংশ ৬৩ পাউন্ড ৮ পেনি বেড়েছে। মেয়রের প্রিসেপ্টসহ মোট বৃদ্ধি হয়েছে ৮৩ পাউন্ড ২১ পেনি। নিম্ন আয়ের যোগ্য পরিবারগুলো কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের আওতায় ছাড় পেতে পারে; সবচেয়ে দরিদ্র যোগ্য পরিবারের ক্ষেত্রে বিল পুরোপুরি মওকুফের সুযোগও রয়েছে। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কতটা বৃদ্ধি হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

নিউহামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যান্ড ডি বাড়ির বার্ষিক কাউন্সিল ট্যাক্সের মোট বিল ১ হাজার ৯৪৪ পাউন্ড ২৩ পেনি। ফলে নতুন অর্থবছরে কর বাড়লে এই বরোতেও বিল ২ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত হার প্রকাশের আগে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

কর বাড়লে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার, একক অভিভাবক, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সামাজিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বাসিন্দারা আর্থিক চাপে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে কাউন্সিলগুলোর বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় আবর্জনা সংগ্রহ, পরিচ্ছন্নতা, লাইব্রেরি, আবাসন সহায়তা ও অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় ব্যয় কমানো হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সাধারণ নিয়মে কাউন্সিল ট্যাক্স ৫ শতাংশের বেশি বাড়াতে গণভোটের প্রয়োজন হয়। তবে আর্থিক সংকটে থাকা কাউন্সিলগুলো সরকারের বিশেষ অনুমতি চাইতে পারে। ওয়ান্ডসওয়ার্থে প্রায় ৯৪ শতাংশ এবং হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যামে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বারনেটেও বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

লন্ডনের কাউন্সিল ট্যাক্সের একটি অংশ স্থানীয় পরিষেবায় এবং অন্য অংশ মেয়রের প্রিসেপ্ট হিসেবে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের মতো পরিষেবায় ব্যয় হয়। ২০২৭ সালের জন্য মেয়রের অংশের নতুন হারও আগামী বছরের শুরুতে ঘোষণা করার কথা।

টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামের বাসিন্দাদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের নতুন বাজেট, কর বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং ছাড়ের নিয়মের দিকে নজর রাখা। করের চূড়ান্ত হার এখনো নির্ধারিত না হলেও লন্ডনের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে নতুন এই সম্ভাবনা বহু পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।