ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
মেঘালয়ের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যার শঙ্কা, পানির নিচে সাদাপাথর
সিলেট প্রতিনিধি, ২২ জুন:
সিলেটে আবারও বন্যার আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
এরই মধ্যে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীর প্রবল স্রোত ও পানি বৃদ্ধির কারণে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নৌকার মাঝিরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও পিয়াইন নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে কানাইঘাট এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। উজানে আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সাদাপাথর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকদের হাঁটার জন্য ব্যবহৃত পাথুরে পথগুলো পানির নিচে চলে গেছে। কয়েকটি অস্থায়ী দোকানও আংশিকভাবে ডুবে গেছে। ফলে পর্যটন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে এমন দৃশ্য নতুন নয়, তবে চলতি বছরের পানি তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু পর্যটন নয়, টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসীও। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও কমে গেছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি জোরদার করেছে। উপজেলা পর্যায়ে শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি মূলত উজানের ঢলনির্ভর পরিস্থিতি। মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে আপাতত সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং নদীগুলোর পানি আরও বাড়ে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।