‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১ অক্টোবর:
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকে—০.৫ শতাংশ বেড়েছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS) বুধবার প্রকাশিত সংশোধিত হিসাবে জানিয়েছে, আগের প্রাথমিক হিসাব ছিল ০.৪ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন তথ্যের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির হিসাব ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্রিটিশ অর্থনীতি ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সেবা খাত। এপ্রিল-জুন সময়ে সেবা খাতের উৎপাদন ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকাণ্ড এবং তথ্য ও যোগাযোগ খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কার্যক্রম ২.৩ শতাংশ এবং তথ্য ও যোগাযোগ খাত ২.৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ খাতও ০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন খাতে ০.১ শতাংশ সংকোচন হয়েছে।
বাণিজ্যও দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিন মাসে ব্রিটেনের রপ্তানি ২.৮ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আগের প্রাথমিক হিসাবে বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ। এক বছরের তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ এখন ৪.২ শতাংশ বেশি। পণ্য রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ এবং সেবা রপ্তানি ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে আমদানির মোট পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ONS বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে নিট বাণিজ্য থেকে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার দিক থেকেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাথাপিছু প্রকৃত GDP ০.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় তা ১.২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মাথাপিছু প্রকৃত গৃহস্থালি ব্যবহারযোগ্য আয় বেড়েছে ১ শতাংশ—প্রথম প্রান্তিকে যা ০.৮ শতাংশ কমেছিল।
তবে অর্থনীতির সব সূচক সমানভাবে শক্তিশালী নয়। আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.১ শতাংশ, যা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে বেকারত্বের হার ৪.৯ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকলেও আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে পেরোলভিত্তিক কর্মসংস্থান ০.৫ শতাংশ কমেছে। ফলে GDP বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয়, চাকরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ অর্থনীতির সামনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
সব মিলিয়ে, নতুন হিসাব দেখাচ্ছে যে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী ছিল। ONS-এর হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৪ শতাংশ বড় হয়েছে। তবে সামনে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি ঋণ ও ব্যবসায়িক আস্থার মতো বিষয়গুলো অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।