‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

ইংল্যান্ডে প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে £৭৯ মিলিয়ন, লাগানো হবে ৫ লাখ গাছ

ইংল্যান্ডে প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে £৭৯ মিলিয়ন, লাগানো হবে ৫ লাখ গাছ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১ অক্টোবর:

ইংল্যান্ডের শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রকৃতি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডের নতুন সরকারি অর্থায়ন ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগলের ঘোষিত এই কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন বছরে ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় ৫ লাখ গাছ লাগানো হবে।

এই অর্থের মধ্যে ৫৩ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। শহরের রাস্তা, পার্ক, খোলা জায়গা এবং মানুষের বসবাসের কাছাকাছি এলাকায় গাছ লাগানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নতুন গাছ ও ছোট বনাঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু গাছের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং এমন সব জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা যেখানে তা স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি উপকার করতে পারে।

বাকি ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হবে স্থানীয় প্রকৃতি পুনরুদ্ধার প্রকল্পে। এর আওতায় জলাভূমি, নদীতীর, তৃণভূমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের কাজ হবে। স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিল এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলো এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশ নেবে। লক্ষ্য হলো স্থানীয়ভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ ও বন্যপ্রাণী নিরাপদে টিকে থাকতে পারে।

সরকার বলছে, প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের সঙ্গে বন্যা, তাপপ্রবাহ ও খরার ঝুঁকি মোকাবিলারও সম্পর্ক রয়েছে। শহরাঞ্চলে গাছ অতিরিক্ত তাপ কমাতে এবং বৃষ্টির পানি শোষণে সহায়তা করতে পারে। জলাভূমি ও নদীতীর পুনরুদ্ধারও অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং স্থানীয় বন্যার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই কর্মসূচি ইংল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত লক্ষ্যের সঙ্গেও যুক্ত। সরকারের পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা থামানো এবং ২০৪২ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক আবাসস্থল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সুরক্ষিত এলাকার বাইরে ২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর বন্যপ্রাণীসমৃদ্ধ আবাসস্থল তৈরি বা পুনরুদ্ধারের অন্তর্বর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো নতুন অর্থায়নকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের অনেকে মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত পরিবর্তন আনতে এককালীন অর্থায়নের পাশাপাশি নিয়মিত বিনিয়োগ, স্থানীয় পর্যায়ে প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণও জরুরি। কারণ শুধু গাছ লাগালেই হবে না—গাছগুলো টিকে থাকা, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ফিরে আসা এবং নদী-জলাভূমির প্রকৃত উন্নতি হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে আগামী তিন বছরে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে প্রায় ৫ লাখ নতুন গাছ এবং আরও বিস্তৃত প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।