উপসাগরে যুদ্ধের উত্তেজনা: এক লক্ষের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক আটকা
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা সব ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক বিমান (কমার্শিয়াল ফ্লাইট), ভাড়া করা বিশেষ বিমান (চার্টার ফ্লাইট), সামরিক পরিবহন বিমান এবং প্রয়োজনে বাসে করে স্থলসীমান্ত পার করে সৌদি আরব বা তুরস্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ও ড্রোন হামলার কারণে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর এবং হোটেল এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফরেন অফিস (পররাষ্ট্র দপ্তর) ২৪ ঘণ্টার জরুরি সহায়তা সেবা চালু করেছে। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যারা বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই লক্ষেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পররাষ্ট্র দপ্তরে নিজেদের উপস্থিতি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। আগে কোভিড মহামারি ও বড় ভ্রমণ সংস্থার দেউলিয়া হওয়ার সময় সরকার বহু মানুষকে ফিরিয়ে এনেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি।
এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেল ও খাবারের খরচ দেশটির সরকার বহন করছে। কিন্তু ফ্লাইট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এই সহায়তা চালু থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
সরকার নাগরিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই যে কোনো সময় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।