ইরাক যুদ্ধের শিক্ষা টেনে আক্রমণাত্মক অভিযানে না যাওয়ার ঘোষণা

ইরানে হামলায় যুক্ত হবে না যুক্তরাজ্য, তবে ব্রিটিশ ঘাঁটি থাকবে প্রতিরক্ষায় সক্রিয় — স্টারমার

ইরানে হামলায় যুক্ত হবে না যুক্তরাজ্য, তবে ব্রিটিশ ঘাঁটি থাকবে প্রতিরক্ষায় সক্রিয় — স্টারমার

ভয়েস অব পিপল লন্ডন, ২ মার্চ:

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলা চালিয়ে “সরকার পরিবর্তন” নীতিতে অংশ নেবে না। তবে ব্রিটিশ স্বার্থ ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। “ইরাকের ভুল আমরা ভুলে যাইনি। কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার আইনি ভিত্তি ও সুপরিকল্পিত রূপরেখা থাকা জরুরি”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সেই শিক্ষারই প্রতিফলন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে স্টারমার বলেন, “ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ নির্ধারণের দায়িত্ব আমার, এবং আমি সেই দায়িত্ব পালন করেছি।”

এদিকে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যুক্তরাজ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইরাকে জোটঘাঁটির দিকে ছোড়া একটি ড্রোনকে Royal Air Force ভূপাতিত করেছে। একইসঙ্গে সাইপ্রাসের RAF Akrotiri ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেও হামলার চেষ্টা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব John Healey জানিয়েছেন, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘাঁটিতে থাকা পরিবারগুলোকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Iranian strikes, 28 Feb - 2 Mar

প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো আক্রমণ পরিচালনার জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক সমর্থনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমাদের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং মিত্রদের যৌথ আত্মরক্ষার অংশ।”

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ ব্রিটিশ নাগরিক অবস্থান করছেন—ট্রানজিট যাত্রীসহ। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে বিমানবন্দর ও হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরাও ছিলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় Foreign, Commonwealth & Development Office দ্রুত মোতায়েন দল পাঠাচ্ছে এবং নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে।

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার একমাত্র টেকসই পথ হলো কূটনৈতিক সমাধান। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীল কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যুদ্ধ নয়, সমঝোতাই স্থায়ী শান্তির পথ।”

এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—যুক্তরাজ্য সরাসরি আক্রমণে নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের নীতিতেই এগোতে চায়।