হাজার ড্রোন, কোটি ডলার খরচ: ইরানের হামলায় পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ৩ মার্চ: ইরানের সস্তা ড্রোন হামলা পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তীব্র চাপের মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ‘শাহেদ’ ড্রোন তৈরি খরচ মাত্র ৩৫ হাজার ডলার, কিন্তু ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এই খরচের বিপর্যয় এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের প্রধান উদ্বেগ।
বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ২,৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা বিভ্রান্ত করা হয়। ওপেন সোর্স তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৮০,০০০–১ লাখ ড্রোন মজুদ আছে এবং প্রতি মাসে অন্তত ৫০০টি ড্রোন তৈরি করা সম্ভব।
২০২৫ সালের জুনে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত তীব্রভাবে কমে গিয়েছিল। মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে ১৫০টি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়, যা মোট মজুতের এক চতুর্থাংশ। প্রতিটি থাডের দাম প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এবং পুনরায় তৈরি করতে ৩–৮ বছর লাগে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকে, তবে মজুত কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে।
বিপুল ব্যয় কমাতে পশ্চিমারা এখন গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েলের ‘আয়রন বিম’ লেজার সিস্টেম ব্যবহার নিয়ে ভাবছে। লেজার প্রতি শটে মাত্র কয়েক ডলারের খরচ হলেও, বর্তমানে মাত্র এক-দুটি ইউনিট সচল এবং তা কেবল ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ। সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হাজার হাজার ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।