‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

শিশুর পাশে বসতে অভিভাবককে আর অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না

শিশুর পাশে বসতে অভিভাবককে আর অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২ অক্টোবর :

বিমান ভ্রমণে ছোট শিশুদের নিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণের সময় তাদের অভিভাবক বা দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের পাশে বসার জন্য আর অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিমান সংস্থাগুলোকে আসন বরাদ্দের সময় এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু তার সঙ্গে ভ্রমণকারী অভিভাবক বা দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের কাছাকাছি বসতে পারে। এ জন্য পরিবারকে আলাদা করে আসন বাছাইয়ের অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।

বর্তমানে অনেক বিমান সংস্থা যাত্রীদের পছন্দের আসন নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেয়। ফলে ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণকারী পরিবারগুলো অনেক সময় পাশাপাশি বসতে চাইলে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হয়। নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো, পরিবারকে অতিরিক্ত খরচের চাপ থেকে মুক্ত রেখে শিশুদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছোট শিশুদের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বসার বিষয়টি শুধু সুবিধার নয়, নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় অভিভাবকের পাশে থাকা শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে বিমান সংস্থাগুলোকে তাদের আসন বরাদ্দের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তবে কোন পরিস্থিতিতে শিশুকে অভিভাবকের ঠিক পাশের আসনে এবং কোন ক্ষেত্রে একই সারিতে বসানো যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ছুটিতে যাওয়ার সময় ছোট সন্তান নিয়ে বিমানে যাতায়াত করা পরিবারগুলোকে আসনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমতে পারে।

তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং কোন কোন বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বিমান ভ্রমণে পরিবারকে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি এই উদ্যোগের ফলে শিশুদের একা বা অপরিচিত যাত্রীর পাশে বসার ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।