‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ফ্রান্সের সাথে ব্রিটেনের ‘একজন ফেরত, একজন বৈধ পথে’ চুক্তি শেষ, এবার কী হবে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতিতে?
লন্ডন, ১ অক্টোবর : ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অনিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে চালু হওয়া ‘একজন ফেরত, একজন বৈধ পথে’ ব্যবস্থা আজ শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থায় ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে ফ্রান্সে থাকা কিছু যোগ্য আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ব্যবস্থার আওতায় ১,০৮৭ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং ১,১১৭ জনকে ফ্রান্স থেকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারে পৌঁছেছে বলে ব্রিটিশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে চুক্তি শেষ হলেও ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার বন্ধ করতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সহযোগিতা শেষ হচ্ছে না। দুই দেশ সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
এখন ব্রিটেনের অভিবাসননীতির সামনে বড় প্রশ্ন হলো—অনিয়মিতভাবে প্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি বৈধভাবে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কতটা বাড়ানো হবে।
ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে নতুন একটি শরণার্থী পুনর্বাসন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শরৎ থেকে নতুন বৈধ পুনর্বাসন পথ চালু হওয়ার কথা। শুরুতে সীমিতসংখ্যক মানুষকে নেওয়া হবে এবং পরে সেই সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে আশ্রয়ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য নতুন আইন ও অভিবাসন বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত নীতিতে বৈধ পথে আসা এবং অনিয়মিত পথে প্রবেশের মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘একজন ফেরত, একজন বৈধ পথে’ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সরকার বলছে, ফ্রান্সের সঙ্গে সহযোগিতা ও যৌথ সীমান্ত তৎপরতা ছোট নৌকায় পারাপার মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে, অভিবাসনবিষয়ক গবেষক ও সমালোচকেরা বলছেন, ছোট নৌকায় আগমন কমা বা বাড়ার পুরো কারণকে শুধু এই চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই।
ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মূলত এর বৃহত্তর অভিবাসন নীতির কারণে। আশ্রয়প্রার্থী, বৈধ অভিবাসন, পরিবার নিয়ে আসা, স্থায়ী বসবাস এবং নাগরিকত্ব—এসব ক্ষেত্রে সরকারের নতুন নীতির প্রভাব ভবিষ্যতে বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর পড়তে পারে।
বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষদিকে নতুন অভিবাসন বিধিমালার কয়েকটি পরিবর্তন ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য নতুন নিয়মগুলো কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চ্যানেলের এই চুক্তি শেষ হওয়া তাই শুধু ফ্রান্স থেকে নৌকায় আসা মানুষের বিষয় নয়; এটি ব্রিটেনের আগামী দিনের অভিবাসননীতি কোন দিকে যাচ্ছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।