আমদানিনির্ভর জ্বালানি: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আবারো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর ছায়া ফেলেছে। দেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরেই আমদানিনির্ভর, যেখানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পেট্রোলিয়াম এবং এলপিজির বড় অংশ আসে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত বা নৌপথ অবরোধ সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে।
অতীত অভিজ্ঞতা যেমন ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, উচ্চমূল্যে আমদানির চাপ আর ডলারের ঘাটতি দেশীয় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ দেশের অর্থনীতি বহুমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বৈদেশিক ঋণ ও সুদ পরিশোধের বড় অংশ ডলারে হয়। তাছাড়া প্রবাসী আয়, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, দেশের রিজার্ভের বড় উৎস। সংঘাতের কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমলে ডলার সংকট ও জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ আরও বাড়বে।
দেশীয় উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এখনও যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থল ও সমুদ্র উভয় অঞ্চলে নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গ্যাস অনুসন্ধান সীমিত, এবং সৌর ও বায়ুশক্তি ব্যবহার নগণ্য। প্রতিবেশী দেশ যেমন শ্রীলঙ্কা ও ভারত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করছে, বাংলাদেশ এখনও এ পথে পিছিয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। না হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে দেশ বারবার জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকবে।