তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ব্রেক্সিটের পর ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় ব্রিটেন, নভেম্বরে শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ অক্টোবর :
ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘমেয়াদে ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনার কথা বলেছেন। নভেম্বরে সম্ভাব্য ব্রিটেন-ইইউ শীর্ষ বৈঠককে সামনে রেখে আলোচনা এগোচ্ছে।
ইইউর যুক্তরাজ্যবিষয়ক রাষ্ট্রদূত জুক্কা সালোভারা বলেছেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মূলত ব্রিটেনের। লন্ডন কোন ধরনের সম্পর্ক চায়, তা স্পষ্ট হলে ব্রাসেলস আলোচনায় প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাজ্য এখনো ইইউর অন্যতম প্রধান অংশীদার।
নভেম্বরের বৈঠকের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য ব্যবস্থা, তরুণদের চলাচল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের নিয়মকানুন আরও কাছাকাছি করা হলে সীমান্তে কাগজপত্র ও পরীক্ষা কমানো সম্ভব হতে পারে। বর্তমানে ব্রিটেনের খাদ্য রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ ইইউ বাজারে যায় এবং ব্রিটেনের খাদ্য আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে ইইউ থেকে বলে ইইউ রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন।
তরুণদের জন্য সম্ভাব্য একটি ‘ইয়ুথ এক্সপেরিয়েন্স স্কিম’ নিয়েও আলোচনা চলছে। ব্রিটেন প্রাথমিকভাবে বছরে ৫০ হাজার তরুণকে এই সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে ইইউ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ব্রাসেলস অবশ্য এর চেয়ে বেশি সুযোগ চাচ্ছে।
এদিকে বার্নহ্যাম ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় সম্পর্কের সম্ভাবনার তালিকায় বর্তমান ব্যবস্থা বজায় রাখা, কাস্টমস ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া, একক বাজারে ফিরে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার মতো বিষয়ও আলোচনায় রেখেছেন। তবে ইইউতে ফিরে যাওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; এটি আলোচনায় থাকা একটি সম্ভাবনা মাত্র।