অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১০ এপ্রিল: অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনগুলোর মাত্র ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে—যা গত অন্তত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশই ভিসা পাননি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্যটি প্রকাশ করেছে টাইমস হায়ার এডুকেশন

শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। নেপালে এ হার ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন কি না, সেটি গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ফলে সন্দেহজনক বা দুর্বল আবেদনগুলো সহজেই বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আবেদন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ এবং নেপালে ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আবেদন বাড়া এবং অনুমোদন কমে যাওয়ার এই দ্বৈত চাপ অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হলে সেটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে ভবিষ্যতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভিসা অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।

এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে International Education Association of Australia। সংগঠনটির মতে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার যেভাবে বাড়ছে, তা এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রবাহে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।