ঈদ যাত্রায় রাস্তায় গড়ে প্রতি ঘন্টায় ১ জনের মৃত্যু
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২২ মার্চ : বাংলাদেশে ঈদের আনন্দ যেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মস্পর্শী শোকের ছায়ায় পরিণত হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় অন্তত দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ যেন আমাদের রাস্তার নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতার কাঁটা ভর্তি হিসাব।
ঢাকা যাত্রাবাড়িতে লেগুনা ও মিনি বাসের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আজিজুল ইসলাম (৫৮) ও সাইফুল ইসলাম (৫৫)। কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝিনাইদহে স্কুলছাত্রসহ দুজন, নাটোরে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় দুইজন, ময়মনসিংহে শিশুসহ দুজন, চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একজন এবং মিরসরাইয়ে প্রাইভেট কার চালকের মৃত্যু হয়েছে।
ছোট-বড়, শিশু-বৃদ্ধ—ঈদের আনন্দের বাইরে কেউ বাঁচেননি। ঝিনাইদহের আব্দুল গফুর, ফরিদপুরের জিহাদ শেখ, চুয়াডাঙ্গার সুরুজ—সবই ছিল এক কিশোর বা তরুণ প্রাণ, যা এখন শুধু শোকের নাম। হবিগঞ্জে একটি পিকআপ খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন; ধারণা করা হচ্ছে তারা একই পরিবারের সদস্য।
এ ২৪ ঘণ্টার হত্যাকাণ্ড শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটি আমাদের দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়ানক ব্যর্থতা। মহাসড়কগুলোতে লেভেল ক্রসিং, অপ্রতিবন্ধক ট্রাফিক ব্যবস্থা, বেপরোয়া চালক এবং অপরিকল্পিত যানজট—সব মিলিয়ে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।
শুধু রাস্তায়ই নয়, আমাদের সমাজের উদাসীনতা, প্রশাসনিক ত্রুটি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অনীহাও এই মৃত্যুর পিছনে বড় কারণ। প্রতি ঈদে আনন্দের সঙ্গে মৃত্যুর এই স্লোগান যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
এবারও পরিবারগুলোকে দেওয়া হয়েছে অর্ধেক মানসিক সান্ত্বনা—কিছু অর্থ প্রদান। কিন্তু মৃতদের ফিরে আসেনি, আহতদের ক্ষত ঘাটল না। এই সড়ক হত্যা যাত্রা বন্ধ করতে হলে আমাদের প্রয়োজন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতন চালক এবং সম্পূর্ণ ট্রাফিক নজরদারি।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩৬ প্রাণ হারানো—এটি কেবল শোক নয়, এটি একটি বিরাট সতর্ক সংকেত সড়ক মন্ত্রনালয়ের জন্য এবং জনগনের জন্যও বটে।