ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রী হত্যা, কারাগারে জামায়াতের সাবেক রুকন

ভাড়াটে খুনি দিয়ে সাবেক স্ত্রী হত্যা, কারাগারে জামায়াতের সাবেক রুকন

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৬ আগস্ট :

লক্ষ্মীপুরে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভিযোগে জামায়াতের সাবেক রুকন আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে পুলিশ বলছে, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক ব্যক্তিকে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ওই ভাড়াটে খুনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।


আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত সোমবার লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আবু বক্কর সিদ্দিক। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, আবু বক্কর সিদ্দিক নিহত সালেহা বেগমকে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে আর্থিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে জমি কেনার কথা থাকলেও তা না করে আরও অর্থ দাবি করেন তিনি। টাকা ফেরত চাওয়ায় দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে।

তদন্তে আরও উঠে আসে, এই বিরোধের জেরেই ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেলিম কৌশলে সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গিয়ে সাভারে বিক্রি করা হয়।

ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একদিন আগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মো. সেলিম গ্রেপ্তার হলে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিকল্পনার কথাও জানান। এরপর পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ বলেছেন, আবু বক্কর বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। তবে তিনি অতীতে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।