ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
PIP হারানোর শঙ্কায় ২ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৫ জুলাই:
যুক্তরাজ্যের প্রতিবন্ধী ভাতা পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (PIP) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা ক্রনিক পেইন-কে ভিত্তি করে দেওয়া পিআইপি সুবিধা পুনর্বিবেচনা করতে। এ ধরনের পরিবর্তন হলে প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের ভাতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু রোগের নাম নয়, একজন ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনযাপন ও চলাফেরায় কতটা সমস্যার মুখোমুখি হন, তার ওপর ভিত্তি করেই পিআইপি দেওয়া হয়। তবে কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো কিছু অবস্থার ক্ষেত্রে বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতি আরও কঠোর হওয়া উচিত, যাতে প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিরাই অগ্রাধিকার পান।
অন্যদিকে প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা যা অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন, কাজকর্ম এবং চলাফেরাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে দেয়। শুধু রোগের ধরন দেখে নয়, ব্যক্তির বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়েই পিআইপি মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে পিআইপি ব্যবস্থার প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনায় স্বীকার করেছে যে বর্তমান ব্যবস্থা "উদ্দেশ্য পূরণে আর কার্যকর নয়"। পর্যালোচনায় অংশ নেওয়া হাজারো ব্যক্তি মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে মানসিকভাবে চাপপূর্ণ, জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে অপমানজনক বলে বর্ণনা করেছেন। চূড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাব চলতি বছরের শরতে প্রকাশ হওয়ার কথা।
সরকার এখনো ক্রনিক পেইনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পিআইপি সুবিধা বাতিলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলতে থাকায় লাখো পিআইপি গ্রহীতার মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের ভাতা তাদের অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়, চিকিৎসা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার প্রধান আর্থিক সহায়তা, তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।