ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
প্রসঙ্গ মসজিদে ইমামতি, এ নিয়ে মাতামাতি তারপর বিএনপি-জামায়াতের হাতাহাতি
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২৫ জুলাই:
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের আগে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আপত্তি ছিল। এর আগের শুক্রবারও একই বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার খুতবা শুরুর আগে সংসদ সদস্য মসজিদে উপস্থিত হলে বিএনপি সমর্থকদের একটি অংশ আপত্তি জানায়। এ সময় মসজিদের ভেতরে থাকা জামায়াত ও শিবির সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ নিয়ে চলে উভয় পক্ষের মাতামাতি। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই মসজিদের আশপাশে পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত মসজিদের নিয়মিত ইমামের নেতৃত্বেই জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম অভিযোগ করেন, মসজিদকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, সংসদ সদস্য মসজিদের নির্ধারিত ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য দেন এবং পরে নিজে খুতবা ও ইমামতি করার ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য মসজিদে যাননি। স্থানীয় মুসল্লিদের অনুরোধেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, খুতবার সময় বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, ইমামতিকে কেন্দ্র করে বিরোধের আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। তিনি বলেন, মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধ মসজিদের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় স্থানে দলীয় বিরোধ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।