সাম্প্রতিক দেশব্যাপী গবেষণায় উঠে এসেছে
ইংল্যান্ডে এনএইচএসের মাতৃত্বকালীন সেবা পরিবার ও নবজাতকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৬ ফেব্রুয়ারি: ইংল্যান্ডে এনএইচএসের মাতৃত্বকালীন ইউনিটগুলোতে প্রসবকালীন সেবা প্রায়শই ভোগান্তিমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি সাম্প্রতিক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যে হাসপাতালগুলোতে মা ও নবজাতকরা আঘাত বা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, সেখানে প্রায়ই তাদের ভুল ঢাকার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসা নথি বিকৃত করা হয় এবং শোকাহত পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অবহেলাজনিত” সেবা পরিবারগুলোর জন্য মানসিক ও আবেগগতভাবে ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে। মাতৃত্বকালীন বিভাগে কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও অমিল মায়েদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু ও দরিদ্র নারীদের ক্ষেত্রে বর্ণবাদ এবং বৈষম্যের কারণে ফলাফল আরও খারাপ হয়।
লেডি অ্যামোস, সাবেক লেবার মন্ত্রি, জানান যে সম্প্রতি বৃদ্ধ বয়সের নারীদের মাতৃত্ব এবং স্থূল নারীদের সন্তান ধারণের হার বৃদ্ধির কারণে মাতৃত্বকালীন সেবা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থা নারী, নবজাতক এবং পরিবার—কিংবা কর্মীদের—কারও জন্যই সঠিকভাবে কাজ করছে না।”
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে কিছু উদাহরণ:
-
এক হাসপাতালে নবজাতক আক্রান্ত হওয়ার পর নথিতে তার পরিস্থিতি মিথ্যা ভাবে রিপোর্ট করা হয়।
-
কিছু পরিবার জানিয়েছেন, তারা একাধিকবার প্রশ্ন করেও সন্তানের ক্ষতির কারণ জানতে পারেননি।
-
মাতৃত্বকালীন বিভাগের ভেতরের কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে মা ও নবজাতকের সেবা প্রায়শই বিভ্রান্তিকর ও ধীরগতি হয়।
লেডি অ্যামোস এই প্রতিবেদনের জন্য মাসের পর মাস শত শত পরিবার ও সেবাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রোগীর নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া প্রায়ই অমান্য করা হয়। এ ধরনের “কভার-আপ” সংস্কৃতি শুধুমাত্র ক্ষতি করছে না, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগত ত্রুটি, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, এবং বর্ণবাদী বা বৈষম্যমূলক মনোভাব। বিশেষ করে দরিদ্র বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীরা সেবা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন, যা স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রতিবেদনের প্রকাশের পর সরকারকে হাসপাতালগুলোতে সেবা মান উন্নয়ন, তথ্যপ্রদান নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য তৎপর হতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্যাগুলো সমাধান না হলে মা ও নবজাতকের ক্ষতি চলতেই থাকবে এবং এনএইচএসের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই কমবে।