ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
বিশ্ব শিক্ষায় এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য, নাকি পিছিয়েছে অন্যরা?
লন্ডন, ৫ আগস্ট: আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে যুক্তরাজ্যের স্কুলশিক্ষার্থীদের ফলাফল আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির পেছনে প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা সত্যিই ভালো করছে, আবার অন্যদের মতে, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ওপরে উঠে এসেছে।
দ্য টাইমস-এর তথ্য বিশ্লেষকদের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মাইকেল গভের শিক্ষা সংস্কারের পর থেকে ইংল্যান্ডের স্কুলব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা এবং জবাবদিহিতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এসব সংস্কারের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তোলা।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের ফলাফলে দেখা যায়, গণিত, বিজ্ঞান ও পাঠ-অনুধাবনের মতো বিষয়ে ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গণিতে তাদের উন্নতি উল্লেখযোগ্য বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু র্যাঙ্কিং দেখে শিক্ষার প্রকৃত মান নির্ধারণ করা উচিত নয়। কারণ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক দেশে শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তালিকায় ইংল্যান্ড তুলনামূলকভাবে এগিয়ে এসেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, মাইকেল গভের সংস্কারের ফলে পাঠ্যক্রম আরও কঠোর হয়েছে এবং পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব বেড়েছে। এর ফলে কিছু বিষয়ে ফলাফলের উন্নতি হলেও শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, সৃজনশীলতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক অবস্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা, সমতা, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত অর্জনও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দ্য টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের উন্নতির পেছনে শিক্ষা সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে, তবে একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের দুর্বল পারফরম্যান্সও এই সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংকে একমাত্র সূচক হিসেবে না দেখে সামগ্রিক শিক্ষার মানের আলোকে বিষয়টি মূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।