যুক্তরাজ্যে অতিদরিদ্র্যের শীর্ষচূড়ায় বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি পরিবার !
লন্ডন, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬: ব্রিটেনে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের পরিবারগুলো এখনও দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের মুখোমুখি হচ্ছে। নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে, যে অঞ্চলে দারিদ্র্যর হার সবচেয়ে বেশি, তা হলো পশ্চিম মিডল্যান্ডস, যা মধ্য-১৯৯০-এর দশকের তুলনায় আজও ভয়ঙ্কর অবস্থায় রয়েছে।
জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ সালে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশের ৫৬% পরিবার এবং পাকিস্তানের ৪৯% পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল। দারিদ্র্যের সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন পরিবারের আয় যদি বাড়ি ভাড়া পরিশোধের পর জাতীয় গড় আয়ের ৬০% এর নিচে থাকে, তবে সেই পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে ধরা হয়। তুলনামূলকভাবে সাদা পরিবারে এই হার ১৯% মাত্র। এছাড়া ব্ল্যাক আফ্রিকান পরিবারের ৪০% মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।
শহরগুলোতে বিশেষ করে বার্মিংহাম, ব্র্যাডফোর্ড ও লন্ডনের কিছু কেন্দ্রীয় এলাকার ব্রিটিশ এশিয়ান পরিবারগুলো আরও বেশি বিপর্যস্ত। পশ্চিম মিডল্যান্ডসের দারিদ্র্যের হার ২৭%, উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে ২৫%, লন্ডনে ২৪% এবং ইয়র্কশায়ার ও হাম্পারে ২৩%। ১৯৯৪-৯৫ সালে পশ্চিম মিডল্যান্ডসের দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪%।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি পরিবারগুলোর দারিদ্র্যের পেছনে মূল কারণগুলো হলো: সন্তানদের দেখাশোনা, কম বেতন, এবং প্রাইভেট ভাড়ার ওপর বেশি নির্ভরশীলতা। শিশুদারিদ্র্যও উদ্বেগজনকভাবে বেশি, যেখানে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি পরিবারের দুই-তৃতীয়াংশ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে (৬১% ও ৬৭% যথাক্রমে)।
পশ্চিম মিডল্যান্ডসের ওয়ালসালে নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা ‘আইনা কমিউনিটি হাব’-এর কর্মকর্তা রোকশানা আক্তার বলেন, “খাবারের দাম ক্রমবর্ধমান, কিন্তু মানুষের আয় খুব কম। অনেকেই মিনিমাম ওয়েজও পান না, ফলে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।” তিনি বলেন, সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করছে না।
জেআরএফ-এর বিশ্লেষক জো এলিয়ট জানিয়েছেন, পশ্চিম মিডল্যান্ডসের দারিদ্র্যের মূল চালক হলো কর্মসংস্থানের কম হার, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের তুলনায় কম আয় এবং প্রাইভেট ভাড়ায় বসবাস। তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, লোকেদের জন্য ন্যূনতম ইউনিভার্সাল ক্রেডিট নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ভাড়া সহায়তার হার বাড়ানো, যাতে মানুষ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়।