‘আইপিএল খেলতে এসেছি, গালি খেতে নয়’ : নাভিন উল হক

‘আইপিএল খেলতে এসেছি, গালি খেতে নয়’ : নাভিন উল হক

বাবা পেশায় চিকিৎসক। কিন্তু দেশে উন্নত জীবন কাটাতে পারেননি। যুদ্ধবিধ্বস্ত কাবুল থেকে শরণার্থী হিসেবে পাকিস্তান চলে যেতে হয়েছিল নাভিন-উল-হককে। সেখানে ক্রিকেট খেলে আজ বিশ্বতারকা।

আফগানিস্তানের পেসার নতুন করে আলোচনায় আসলেন বিরাট কোহলির সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে। সোমবার রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আর লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ম্যাচে অবশ্য ঝামেলা একটা হয়নি।

মূল আলোচনায় বিরাট কোহলি আর গৌতম গম্ভীরের লড়াই। তবে নাভিন-উল-হকও এই ঘটনার অন্যতম কুশীলব। ম্যাচ শেষে কোহলির সঙ্গে হাত মেলানোর সময় তার সঙ্গেই প্রথম ঝামেলাটা লেগেছিল। পরে তাতে যোগ দেন লখনৌর মেন্টর গৌতম গম্ভীর।

কোহলির সঙ্গে ঝামেলার বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন নাভিন। 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' এর প্রতিবেদন, নাভিন এই ঘটনা নিয়ে তার সতীর্থকে বলেন, ‘আমি আইপিএল খেলতে এখানে এসেছি, কারও গালি শুনতে হয়।’

শুধু এখানেই থামেননি। ২৩ বছর বয়সী আফগান পেসার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টের স্টোরিতে কোহলিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন,‘ তোমার যা প্রাপ্য, পাবেই। এটাই হওয়ার কথা, এমনই হবে।’

কী হয়েছিল সেদিন?
ক্রিকেট মাঠে কোহলির অতি আগ্রাসী মনোভাবের কথা প্রায় সবাই জানেন। যেহেতু উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ছিল, লখনৌর এক একটি উইকেট পড়ার পর নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উল্লাস করছিলেন কোহলি। বাড়তি উল্লাস করেন নাভিন আউট হওয়ার পরও।

লখনৌর ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ভঙ্গি করতেও দেখা যায় কোহলি। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জেতে কোহলির দল বেঙ্গালুরু। কিন্তু মাঠের লড়াই থামলে কী হবে, মাঠের বাইরের লড়াই চলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও।

বিজ্ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচ শেষে দু’দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানোর সময়। হাত মেলানোর সময় কোহলিকে কিছু একটা বলেন লখনৌর আফগান ক্রিকেটার নাভিন উল হক। পাল্টা কিছু বলেন কোহলিও। তার পরেই সেখানে আসেন গম্ভীর। তিনি কোহলিকে কিছু একটা বলেন। লেগে যায় ঝামেলা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে দেখে সেখানে এসে উপস্থিত হন দু’দলের বাকি ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা। কোহলি ও গম্ভীর দুজনই দিল্লির। লখনৌর স্পিনার অমিত মিশ্র ও সহকারী কোচ বিজয় দাহিয়াও দিল্লির হয়ে খেলেছেন। সেই কারণে তারা কোহলি-গম্ভীরকে ভালোভাবে চেনেন। তারাই বেশি উদ্যোগী হয়ে দু’জনকে আলাদা করেন। লখনৌর অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও ছিলেন সেখানে। কোহলিকে সরিয়ে নিয়ে যান বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি।

কিন্তু সেখানেই সব থেমে যায়নি। তিনি যে গম্ভীরের কথা ভালোভাবে নেননি সেটা কোহলির চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। বাউন্ডারির কাছে দাঁড়িয়ে রাহুলের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলেন তিনি। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন লখনৌর মালিক সঞ্জীব গোয়েনকা। তার সঙ্গে অবশ্য হাত মেলান কোহলি। তবে চোখেমুখে ছিল না আপোসের ছাপ।