ইংল্যান্ডে শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, এখন ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা দেবে এনএইচএস
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ১ জানুয়ারি ২০২৬: ইংল্যান্ডে শিশুদের টিকাদান পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় প্রতি পাঁচজন শিশুর একজন এখনো মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় টিকা পায়নি। এই বাস্তবতায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে এনএইচএস—ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত হেলথ ভিজিটররা শিশুদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে টিকাদান করবেন। প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো—যেসব পরিবার নানা সামাজিক ও বাস্তব সমস্যার কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে, তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছানো। এর মধ্যে রয়েছে জিপিতে নিবন্ধিত না থাকা পরিবার, যাতায়াত ব্যয়ের চাপ, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কিংবা শিশু দেখাশোনার জটিলতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিটি টিকার ক্ষেত্রে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে আওতায় না আনলে সামষ্টিক রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর থাকে না। কিন্তু ২০২৪–২৫ সালে ইংল্যান্ডে কোনো প্রধান শিশুটিকার ক্ষেত্রেই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। অঞ্চলভেদে টিকাদানের হারেও দেখা গেছে স্পষ্ট বৈষম্য।
এনএইচএস সূত্রে জানা গেছে, জিপি রেকর্ড, হেলথ ভিজিটরদের নথি এবং স্থানীয় ডেটাবেসের মাধ্যমে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করা হবে। শুধু টিকা দেওয়া নয়, অনেক অভিভাবকের মধ্যে টিকা নিয়ে যে সংশয় বা ভীতি রয়েছে, তা দূর করতেও হেলথ ভিজিটরদের বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে লন্ডনসহ ইংল্যান্ডের পাঁচটি অঞ্চলের ১২টি এলাকায় এই কর্মসূচি চালু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উদ্যোগটি সফল হলে ২০২৭ সাল থেকে দেশব্যাপী এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন শীতকালীন ফ্লু ও অন্যান্য সংক্রমণে এনএইচএস অতিরিক্ত চাপে রয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় ফ্লু টিকা নেওয়ার হার কিছুটা বেড়েছে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—শিশুদের টিকাদানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ টিকার কভারেজ এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। কিছু এলাকায় হাম সংক্রমণে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এর পাশাপাশি নতুন বছরে এনএইচএসের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে চিকেনপক্সের টিকা। এতদিন যা মূলত বেসরকারি ব্যবস্থায় সীমিত ছিল, এখন তা বিনামূল্যে শিশুদের দেওয়া হবে। সরকারের আশা, এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমার পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের ওপর পারিবারিক চাপও কিছুটা হালকা হবে।
উল্লেখ্য, ঘরে গিয়ে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বীকার করে নিচ্ছে একটি কঠিন সত্য—বিদ্যমান ব্যবস্থায় বহু শিশু পিছিয়ে পড়ছে। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থেমে থাকে, নাকি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্যের সংকটে কার্যকর সমাধান হয়ে ওঠে।