নতুন বছরের শুরুতে জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

নতুন বছরের শুরুতে  জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

সিদ্দিকুর রহমান নির্ঝর, ৩১ ডিসেম্বর :  লেবার সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ ও দলের ভেতরের ক্ষোভ সামাল দিতে নতুন বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা সামনে আনছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিদ্যুৎ বিল ও সুদের হার কমানো, দুই সন্তানের ভাতা সীমা তুলে নেওয়া এবং জ্বালানি ব্যয় হ্রাস—এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ভোটার ও নিজের দলের সংসদ সদস্যদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্টারমার একটি ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরবেন। পাশাপাশি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে লেবার এমপিদের জন্য তার সরকারি বাসভবন চেকার্সে একাধিক বৈঠক ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে।

নতুন বছরের বার্তায় স্টারমার বলেন, ২০২৬ সাল হবে ‘প্রমাণের বছর’, যখন সাধারণ মানুষ বাস্তব পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করবে। তার ভাষায়, “বিদ্যুৎ বিল, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, আর মানুষ আবার আশাবাদী হবে।”

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিভিন্ন জরিপে কিয়ার স্টারমারকে ইতিহাসের অন্যতম অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী বলা হচ্ছে। মে মাসে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের নির্বাচনে লেবার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে। অনেক এমপি ইতোমধ্যেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

ক্রিসমাস ছুটিতে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোটারদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন লেবার এমপিরা। একজন এমপি গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমি যতটা ভেবেছিলাম, পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ।”

সরকার বলছে, আগামী সপ্তাহেই সংসদে আলাদা বিল এনে দুই সন্তানের ভাতা সীমা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড ১৩ বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ওয়ার্ম হোমস’ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন, যেখানে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির মতো সবুজ প্রযুক্তিতে জোর দেওয়া হবে। এতে গড়ে বছরে একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১৩৮ পাউন্ড কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দলের ভেতর এই উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, অভিজ্ঞ এমপিদের উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা সরকারের ভেতর ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই ২০২৬ সালের কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন কিয়ার স্টারমার—কিন্তু ভোটারদের আস্থা আদৌ ফেরানো যাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।