‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’

ব্রেক্সিটের ১০ বছর পর ইইউতে ফেরার সম্ভাবনা সামনে আনলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রেক্সিটের ১০ বছর পর ইইউতে ফেরার সম্ভাবনা সামনে আনলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১ অক্টোবর :

ব্রেক্সিটের প্রায় ১০ বছর পর যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ভবিষ্যতে ব্রিটেনের ইইউতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

লেবার পার্টির সম্মেলনের পর একাধিক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটেনের সামনে কয়েকটি পথ রয়েছে—বর্তমান সম্পর্ক বজায় রাখা, ইইউর সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হওয়া, একক বাজারে ফিরে যাওয়া অথবা ‘পুরোপুরি’ ইইউ সদস্যপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। তবে তিনি এখনই ইইউতে ফেরার সিদ্ধান্ত বা কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি।

বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের যুক্তরাজ্য–ইইউ শীর্ষ বৈঠককে সামনে রেখে সরকারের পর্যালোচনায় এসব বিকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক কোন কাঠামোয় থাকা উচিত, সে বিষয়ে দেশকে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

ইইউতে পুরোপুরি ফিরে যাওয়া এবং একক বাজারে যুক্ত হওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। একক বাজারে যুক্ত হলে ইইউর বাজারব্যবস্থা ও বিভিন্ন নিয়মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে। আর পূর্ণ সদস্যপদে ফিরলে যুক্তরাজ্য আবার ইইউর সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ইউনিয়নের সামগ্রিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগত কাঠামোর আওতায় আসবে।

পূর্ণ সদস্যপদে ফিরলে মানুষের অবাধ চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমানে ইইউর একক বাজারের চারটি মৌলিক স্বাধীনতার একটি হলো মানুষ বা শ্রমিকের অবাধ চলাচল। ফলে পূর্ণ সদস্যপদ বা এমন কোনো ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্য ফিরলে যাতে এই নীতি প্রযোজ্য হয়, ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজের সুযোগ এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাস ও কাজের অধিকার নিয়ে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য কী শর্তে ভবিষ্যতে ইইউতে ফিরবে, সেটি এখনো নির্ধারিত নয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ব্রিটেন আগের সদস্যপদ সরাসরি ‘পুনরায় চালু’ করতে পারবে না। ইইউ ছেড়ে যাওয়া কোনো দেশ আবার সদস্য হতে চাইলে নতুন করে সদস্যপদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে হয়। ফলে ব্রিটেন ইইউতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয় হবে।

ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের জুনে পার্লামেন্টে দেওয়া সরকারি জবাবে বলা হয়েছিল, সরকার একক বাজার, কাস্টমস ইউনিয়ন বা অবাধ চলাচলে ফিরে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করবে না। কিন্তু বার্নহ্যামের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এসব বিকল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইউরোপ থেকেও বার্নহ্যামের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া এসেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ ব্রিটেনের সম্ভাব্য ইইউ প্রত্যাবর্তনের ধারণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে ইইউর পূর্ণ সদস্যপদে ফিরলে সদস্যপদের সুবিধা বেছে নিয়ে কিছু মৌলিক নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না—ইউরোপীয় পক্ষ থেকে এমন বার্তাও এসেছে।

এদিকে ইউগভের ২৪–২৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ৩২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। একই জরিপে ৭৩ শতাংশ মানুষ ইইউতে পুরোপুরি ফিরে না গিয়ে বর্তমানের তুলনায় আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে এসব জনমত জরিপ কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। ব্রিটেন ইইউতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে গণভোটের প্রয়োজন হবে কি না, কী শর্তে সদস্যপদ পাওয়া যাবে এবং অবাধ চলাচলসহ কোন কোন ইইউ নীতি যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও যুক্তরাজ্য–ইইউ আলোচনার ওপর।

ব্রেক্সিটের এক দশক পর তাই ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে—ব্রিটেন কি শুধু ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে, নাকি একদিন আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য হয়ে ফিরবে? আপাতত প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলছেন, সম্ভাবনাটি আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না।