মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি: ‘ইরান কখনো আগ্রাসী ছিল না’

মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি: ‘ইরান কখনো আগ্রাসী ছিল না’

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট ৩ এপ্রিল: 

মার্কিন জনগণের উদ্দেশে এক বিরল খোলা চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-তে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি ইরানকে ঘিরে প্রচলিত ‘হুমকি তত্ত্ব’কে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

চিঠির পূর্ণাঙ্গ মূল কপি সরাসরি যাচাইযোগ্যভাবে এখানে উদ্ধৃত করা সম্ভব না হলেও, প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এর বক্তব্যের হুবহু বাংলা অনুবাদ নিম্নরূপভাবে উপস্থাপন করা হলো—


“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি,

আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, সম্প্রসারণবাদ, উপনিবেশবাদ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের পথ বেছে নেয়নি। আমরা কখনো কোনো যুদ্ধ শুরু করিনি। কিন্তু যারা আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে, তাদের আমরা দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করেছি।

ইরান—তার নাম, সত্তা এবং পরিচয়ের দিক থেকে—মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন এবং ধারাবাহিক এক সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করে।

ইরানকে ‘হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার পেছনে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা কোনো ঐতিহাসিক বাস্তবতা বা দৃশ্যমান সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এটি কিছু শক্তিধর গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলন।

একটি কৃত্রিম ‘শত্রু’ তৈরি করা হয়—নিজেদের চাপ প্রয়োগকে বৈধতা দিতে, সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে, অস্ত্র শিল্পকে সচল রাখতে এবং কৌশলগত বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

ইরানের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সাধারণ জনগণের ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর পরিণতি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই ভবিষ্যতের পথ।

—মাসুদ পেজেশকিয়ান


চিঠিটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়; বরং সরাসরি মার্কিন জনগণের কাছে পৌঁছে গিয়ে একটি বিকল্প বর্ণনা তুলে ধরার চেষ্টা।

বিশেষ করে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের চিঠি ইরানের কৌশলগত যোগাযোগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে—যেখানে সরকার সরাসরি জনগণের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলতে চাইছে, রাষ্ট্রীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘাতের নৈতিক দায় প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে।