ড.ম ইউনুসের বহু অধ্যাদেশ, ছাড়ছে এবার দেশ!

ড.ম ইউনুসের বহু অধ্যাদেশ, ছাড়ছে এবার দেশ!

ঢাকা, ৩ এপ্রিল: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বহুল আলোচিত ২০টি অধ্যাদেশ কার্যত বাতিলের পথে—সংসদের চলতি অধিবেশনে এগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপন না করার সুপারিশ আসায় বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে।

বুধবার সংসদে উপস্থাপিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ২০টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাবে।

এর মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন। বিশেষ করে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের মুখে পড়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলও আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রেখে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই করে আরও শক্তিশালী আকারে পুনরায় বিল হিসেবে তোলা হতে পারে। অন্যদিকে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট সংক্রান্ত তিনটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এসব অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া কার্যক্রম সংরক্ষণের জন্য আলাদা বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ কমিটির এই সুপারিশ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কমিটির ১৩ সদস্যের মধ্যে বিএনপির ১০ জন সদস্য রিপোর্টের পক্ষে থাকলেও জামায়াতের তিন সদস্য ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন। বিশেষ করে বিচার বিভাগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করে তারা এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

আইন অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়। সেই হিসাবে ৯ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়া এসব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে সরকার জানিয়েছে, যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য তোলা হবে, সেগুলো দ্রুত বিল আকারে পাশ করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যত থেমে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে এ ইস্যুতে বিরোধী জোটের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ড. ইউনুস সরকারের নেওয়া আইনগত উদ্যোগগুলোর একটি বড় অংশ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, আর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তাপ।