তথসূত্র বলে দেশ যাচ্ছে রসাতলে!

কলিকালের কলধ্বনি-৩৮

কলিকালের কলধ্বনি-৩৮

উৎসর্গ

সাধারণ নাগরিকদের, যারা প্রতিদিন ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলছে। পত্র পত্রিকা তাই বলছে। আজকের কলামের পরিসংখ্যান বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া। কলামের শেষে সূত্র আছে দেওয়া। 

গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশ চালাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল প্রাপ্ত ড ম ইউনুস ও তার টিম। কিন্তু দেশের জনগন অশান্তিতে হিম। মানুষ কোন দিকেই পাচ্ছে না স্বস্তি।  বরং সব দিকেই যেনো অস্বস্তি। জিনিসপত্রের বাড়ছে দাম। তাই দরিদ্রদের ছুটছে ঘাম। ভুলতে বসেছে বাপ দাদার নাম। সবার উপরে বেড়ে গেছে খুন হত্যা। তাই শুরু হয়েছে প্রতিবাদ অগত্যা। আজকের কলামে এই নিয়ে আলোকপাত। জনগন এই মূহুর্তে চায় শুধু ন্যায্য দামে, দুটো ডালভাত। 

কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ড. ম ইউনুস সরকার যেন এ সকল বাস্তবতা দেখার সামর্থ্য হারিয়েছে। যে সরকারের দায়িত্ব জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, সেই সরকারই আজ নীরব, দায়িত্বহীন এবং ব্যর্থতার পরিচয় বহন করছে।

গত ১৫ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৮২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১১৭ জন, আওয়ামী লীগের ৪৬ জন এবং অন্যান্য দলের কর্মী রয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ১০০-এর বেশি ঘটনায় রাজনৈতিক খুন, গুলি, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্য সহিংসতা ঘটেছে—প্রতি মাসে গড়ে ১১ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারাচ্ছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৮০০-র বেশি ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হন। আহত ৭,০৪২ জন। এ ছাড়াও সামাজিক অস্থিরতা, চাঁদাবাজি এবং সমাবেশকেন্দ্রিক সহিংসতা বাড়ছে। দেশের নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় মানুষ আজ প্রতিনিয়ত আতঙ্কে জীবন কাটাচ্ছে।

ইউনুস সরকারের ব্যর্থতার দৃশ্যপট

প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড:

 জুরাইনে সিএনজি চালক পাপ্পু শেখ গুলি করে হত্যা, মিরপুরে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে খুন, লালদীঘিতে একজনকে গুলি করে হত্যা, খুলনা জেলা আদালত চত্বরে দুই যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার:
 
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। গত ১৫ মাসে ২৪৫টি গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে অন্তত ৭৫ জন নিহত।

অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। নভেম্বর মাসে ৫৮টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে—সেতু, নদী, ডোবায় বা সড়কের পাশে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করছে “বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে,” কিন্তু পরিসংখ্যানের চিত্র ভিন্ন। ১৩ মাসে ৩৯,৯৩৬টি মামলা, যার মধ্যে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় তিন হাজার মামলা।

ইউনুস সরকারের দায়িত্বহীনতার প্রভাব

রাজনীতি এখন জীবন-মৃত্যুর লড়াইতে পরিণত হয়েছে। সরকার ও প্রশাসন কার্যকর না হওয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের উর্ধ্বগতি বেড়ে চলেছে। দেশের মানুষ একদিকে ভয় আর অন্যদিকে ব্যর্থ সরকারের মুখোমুখি—নিরাপত্তাহীনতার এই চিত্র ভীষণই উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় কি ভাবে যে হবে নির্বাচন তা ও একটি প্রশ্ন। 
এদিকে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে পুরো জাতি উদ্বিগ্ন। আবার তারেক জিয়ার দেশে আসা নিয়ে দলের মানুষের এক ধরনের আবেক উৎকণ্ঠা। তাই সব দিক দিয়ে খারাপ দেশের মানুষের মনটা।
শিক্ষকদের আন্দোলনে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ। এ নিয়ে অভিভাবক, ছাত্র - শিক্ষকদের হচ্ছে দ্বন্দ। 
এর উপর নতুন আজাবের ভয়- কখন আসে মহা-ভূমিকম্প! এ নিয়ে চলছে সরকার ও জনগণের লম্ফঝম্প। এত টেনশনে কেমনে বাঁচবে জনগণ? তাই সরকারের উচিত জনতার মন। 

সমাধানের পথ

ইউনুস সরকারের অবিলম্বে নেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:

১. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান

২. রাজনৈতিক সহিংসতার উৎস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ

৩. আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা

৪. অজ্ঞাত লাশের হত্যা তদন্তে স্বচ্ছতা

৫. রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক কর্তব্য। কিন্তু আজ বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতা সর্বত্র। সরকারের দায়িত্বহীনতা না শুধরে, আমাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
======

তথ্যসূত্র

পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি); হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) – মাসিক অপরাধ প্রতিবেদন; মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) – মাসিক অপরাধ প্রতিবেদন; পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র; ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা; টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় – ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় – আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি; জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

লেখক : সম্পাদক - ভয়েস অব পিপল, কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও সাবেক অধ্যাপক।

লন্ডন, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫