সিলেটের হাওরজুড়ে কান্না: তীরে এসে ডুবে গেল সোনালি বোরো স্বপ্ন

সিলেটের হাওরজুড়ে কান্না: তীরে এসে ডুবে গেল সোনালি বোরো স্বপ্ন

ভয়েস অব পিপল প্রতিবেদন:

সিলেটের হাওরাঞ্চলে এখন প্রকৃতির এক কঠিন নীরবতা। সেই নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে আছে কৃষকের কান্না, ভেসে যাওয়া ফসল আর এক বছরের জীবিকার ধস। হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওর—এই তিন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যে বোরো ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাওরের পানি বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে। পাকা আর আধপাকা ধান সেই পানির ভেতরেই নুয়ে পড়েছে, আর অনেক জায়গায় শুরু হয়েছে পচন।

কৃষকেরা বলছেন, এই ধান ছিল তাদের সারা বছরের ভরসা। কেউ জমি বর্গা নিয়ে, কেউ ধার-দেনা করে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে একসঙ্গে মাঠে নেমে এই ফসল ফলিয়েছিলেন। কিন্তু আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনে সব হিসাব ওলট-পালট হয়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, কয়েকদিন আগেও যে মাঠে তারা ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এখন সেখানে দাঁড়িয়ে শুধু পানির দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কেউ কেউ কাটা ধান রোদে শুকানোর সুযোগ না পেয়ে ঘরেই নষ্ট হতে দেখছেন।

কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এভাবে পানির নিচে দীর্ঘ সময় থাকলে অধিকাংশ ধানই আর ব্যবহারযোগ্য থাকবে না। বৃষ্টিপাতও থামার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

হাওরের মানুষজনের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, ক্ষতির পরিমাণ শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিকভাবেও গভীর। এক মৌসুমের আয়, সংসারের খরচ, ঋণ শোধ—সবকিছুর হিসাব এখন পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে।

হাওরপারের মানুষ এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু আকাশেও যেন তাদের জন্য কোনো সহজ উত্তর নেই।