ইরান যুদ্ধ ঘিরে ব্রিটেনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বাড়ছে

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ব্রিটেনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা বাড়ছে

লন্ডন, ৪ মার্চ : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ব্রিটেনে নতুন করে সন্ত্রাসী হুমকির আশঙ্কা সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, লন্ডনের জন্য এখন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত—দুই দিক থেকেই কঠিন সময়।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা পটভূমির এক নিরাপত্তা গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যদি ইরানবিরোধী সামরিক তৎপরতায় সরাসরি জড়ায়, তাহলে দেশটিতে প্রো-ইরান নেটওয়ার্ক ও ‘লোন-উলফ’ হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা সহানুভূতিশীল গোষ্ঠীগুলো ইউরোপজুড়ে সক্রিয় থাকতে পারে, যার প্রভাব যুক্তরাজ্যেও পড়তে পারে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকার বলছে, এটি মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের মতে, এতে যুক্তরাজ্য সরাসরি সংঘাতের ভেতরে টেনে নেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ঝুঁকির বড় অংশ হতে পারে স্বতন্ত্রভাবে হামলা চালানো ব্যক্তিদের কাছ থেকে—যাদের সাধারণত ‘লোন-উলফ’ বলা হয়। এরা কোনো সংগঠনের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই আদর্শগত প্রভাব বা প্রতিশোধপ্রবণ মানসিকতা থেকে হামলা চালাতে পারে। অতীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের হামলার নজির রয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী Hezbollah-এর অবস্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেন এখন এক জটিল ভারসাম্যের মুখে—একদিকে আন্তর্জাতিক মিত্রতার দায়, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। সরকার এখনো সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে না বাড়ালেও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদূর বিস্তৃত হয় এবং ব্রিটেন কতটা প্রত্যক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়ে তার ওপর। আপাতত লন্ডনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—কূটনীতি ও নিরাপত্তার সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখা।