স্টারমার বনাম ট্রাম্প: যুক্তরাজ্য-মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

স্টারমার বনাম ট্রাম্প: যুক্তরাজ্য-মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

লন্ডন, ৪ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে নতুনভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সেনেটর টেড ক্রুজ সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, স্টারমারের পদক্ষেপ “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব খুঁজছে” এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিশেষ সম্পর্কের ক্ষতি করছে।

ঘটনাটি ঘটে এমন সময় যখন ব্রিটিশ সরকার প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মার্কিন বিমান ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে ইরানবিরোধী হামলা চালাতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের কারণে মার্কিন বিমান অতিরিক্ত ঘণ্টা আকাশে কাটিয়েছে। ক্রুজ এ বিষয়ে বলেন, “একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি দেশে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করেন, তা দুই দেশের স্বার্থে ঠিক নয়।”

উল্লেখ্য, ক্রুজ ইরান-সমর্থিত চাগোস দ্বীপের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের হাতে হস্তান্তর প্রস্তাবকেও ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও ব্রিটিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

ডাউনিং স্ট্রিট অবশ্য দ্বন্দ্বকে হালকা করে দেখিয়েছে এবং জোর দিয়েছে যে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো “দৃঢ়” মিত্র। এ বিষয়ে স্টারমার রবিবার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে “রক্ষামূলক” হামলার অনুমতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার তার মন্ত্রিসভার কাছে নিশ্চিত করেছেন, এটি “বৈধ এবং জাতীয় স্বার্থে” নেওয়া পদক্ষেপ।

স্টারমার বারবার জোর দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে অংশ নিচ্ছে না, তবে দেশের সামরিক বিমান ও কর্মীরা আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষামূলক সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে ইরানের প্রতিশোধী হামলার ঝুঁকির মধ্যে।

সমালোচকরা মনে করছেন, স্টারমারের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যকে ‘দুর্বল’ অবস্থানে রাখছে, এবং দেশকে কূটনৈতিক চাপে ফেলে দিয়েছে।