দলীয় বিভাজনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট

দলীয় বিভাজনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সিনেটে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট

বিশ্বে সংবাদ ডেস্ক, ৫ মার্চ : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাব বুধবার মার্কিন সিনেটে ব্যর্থ হয়েছে। দলীয় বিভাজনের মধ্যেই ৪৭-৫৩ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়, ফলে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কার্যত বহাল থাকে।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন উত্থাপিত ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাবের লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌ অভিযান বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধে পুনরায় জড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। ডেমোক্র্যাটদের অধিকাংশ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠরা একযোগে এর বিরোধিতা করেন।

ভোটাভুটিতে ব্যতিক্রমী অবস্থানও দেখা যায়। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল একমাত্র রিপাবলিকান হিসেবে প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানান।

প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতীতের দীর্ঘ যুদ্ধগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তার মতে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ভবিষ্যতে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক মাসের ব্যর্থ আলোচনার পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্ট সংবিধানসম্মত ক্ষমতার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তা প্রয়োজনীয় ছিল।

সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে বর্তমান পদক্ষেপ অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাদের মতে, চলমান সংঘাতের মাঝখানে হঠাৎ করে প্রশাসনের হাত বাঁধা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ইরানেও এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

প্রস্তাবটি ব্যর্থ হওয়ায় আপাতত ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতি অব্যাহত থাকবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের সাংবিধানিক বাধা অতিক্রম করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় বিভাজন যে এখনও পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতিতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে, বুধবারের ভোটাভুটি তারই আরেকটি প্রমাণ।