আল-আকসা মসজিদ বন্ধ, মুসল্লিরা এশা ও তারাবি নামাজের বাইরে: খতিবের হুঁশিয়ারি

আল-আকসা মসজিদ বন্ধ, মুসল্লিরা এশা ও তারাবি নামাজের বাইরে: খতিবের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৫ মার্চ:  ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে জেরুজালেমে মুসল্লিদের ঈমান ও ইবাদতের স্বাধীনতা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শনিবার ভোর থেকে আল আকসা মসজিদে টানা পঞ্চম দিনের মতো নামাজ ও তারাবি বন্ধ রেখেছে দখলদার ইসরাইল।
মসজিদুল আকসার খতিব ও জেরুজালেম ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শেখ ইকরাম সাবেরি বলেন, “জরুরি অবস্থা ঘোষণা দিয়ে মসজিদ বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এর মাধ্যমে দখলদার কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের ওপর আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।”
তিনি আরও জানান, শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মসজিদ থেকে মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু প্রহরিরা ভেতরে রয়েছেন। নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশি পদক্ষেপ মুসল্লিদের ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করছে।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ফলে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবি নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলতি রমজানে আল-আকসায় নামাজে মুসল্লির সংখ্যা সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার কারণে হাজারো রোজাদার কেবল বেয়া চোখে মসজিদ দেখেই তাদের ইবাদত সীমিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
শায়খ সাবরি সতর্ক করেছেন, “যেকোনো অজুহাতকে আল-আকসা বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে, মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি শুধুমাত্র শারীরিক নয়, হৃদয়েরও আঘাত।”
ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা বলেন, “মসজিদ আমাদের হৃদয় ও আত্মার সঙ্গে আবদ্ধ। যখন নামাজ ও তারাবি বন্ধ রাখা হয়, তখন শুধু ইবাদত নয়, আমাদের আত্মবিশ্বাস ও অহংকারও আঘাত পায়।”
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এক মর্মস্পর্শী বার্তা বহন করছে—জায়রা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ ইবাদতের অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপের তাগিদ আরও জোরদার হচ্ছে।