ঠমকি ঠমকি ট্রাম্পের টুইট : তবুও ইরান হচ্ছে না ‘কুইট’
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ০৫ এপ্রিল:
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আবারও দেখা গেল এক অদ্ভুত নাটক—একই দিনে হুমকি, আবার কিছুক্ষণ পরেই শান্তির আশ্বাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন কূটনীতিকে বানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ঠমকি ঠমকি’ খেলা, যেখানে এক পোস্টে আগুন, আরেক পোস্টে জল।
রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কার্যত হুমকি দিয়ে বলেন, মঙ্গলবারই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। কথার ভাষা এমন ছিল, যেন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে—শুধু ঘোষণাটাই বাকি।
কিন্তু নাটকের মোড় ঘুরতে সময় লাগেনি। কয়েক ঘণ্টা না যেতেই আরেক পোস্টে ট্রাম্প জানালেন, সোমবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। যেন যুদ্ধ আর শান্তি—দুই-ই তার আঙুলের ডগায়, শুধু কোন বোতামটি চাপবেন সেটাই ঠিক করছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও একই সুর—ইরান নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা সম্ভব। তবে বাস্তবতা একটু ভিন্ন গল্প বলছে। তেহরান বরাবরের মতোই সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা তারা করছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান নতুন কিছু নয়। তার কূটনীতি অনেকটা ‘টুইট-চালিত’—যেখানে নীতি নির্ধারণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় মুহূর্তের আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা। ফলে একদিকে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ে, অন্যদিকে সেই উদ্বেগকে আবার নিজেই ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা দেখা যায় তার বক্তব্যে।
হরমুজ প্রণালি খোলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তির আল্টিমেটাম—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, যেন বাস্তব কূটনীতি নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক নাটক চলছে। যেখানে সংলাপের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ‘সংবাদযোগ্যতা’-তে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই ঠমকি-ভরা কূটনীতিতে আদৌ কি কোনো সমাধান আসবে? নাকি বিশ্ব শুধু আরও অনিশ্চয়তার দিকে এগোবে?
কারণ ট্রাম্প যতই টুইটে যুদ্ধ ঘোষণা করুন বা শান্তির প্রতিশ্রুতি দিন—ইরান অন্তত এখনো ‘কুইট’ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।