আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বাংলাদেশ, পাকিস্তানিসহ কিছু দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়
লন্ডন, ৬ ডিসেম্বর: যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া স্থগিত করেছে। হোম অফিসের কঠোর ভিসা নিয়ম এবং ভিসা জালিয়াতির ঝুঁকি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ফাইনান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কমপক্ষে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ থেকে ছাত্র ভর্তিতে সীমাবদ্ধতা এনেছে।
যেমন, চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে ভর্তি কার্যক্রম ২০২৬ সালের শরৎ পর্যন্ত স্থগিত করেছে। উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে স্নাতক পর্যায়ে নতুন আবেদন গ্রহণ করছে না, আর ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে ভর্তি স্থগিত করেছে। সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি এবং হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ও একই পথে হাঁটছে। সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার সততা রক্ষা করতে কঠোর অবস্থানই এই সিদ্ধান্তের কারণ।
হোম অফিসের নতুন ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা প্রত্যাখ্যান হার ৫ শতাংশের বেশি হলে তার স্টুডেন্ট স্পন্সর লাইসেন্স ঝুঁকির মুখে পড়বে। সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের গড় প্রত্যাখ্যান হার যথাক্রমে ১৮ ও ২২ শতাংশ, যা নতুন সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এ বছরের শুরু থেকে হোম অফিস প্রত্যাখ্যাত ২৩,৩৬২টির মধ্যে অর্ধেকই এসেছে এই দুই দেশ থেকে।
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা পরামর্শক ভিনসেনজো রাইমো বলেছেন, কম ফি-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষত আন্তর্জাতিক ভর্তির ওপর নির্ভরশীল, তাই মাত্র কয়েকটি সমস্যাজনক আবেদনও তাদের হোম অফিস শর্ত পূরণের সক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে শিক্ষার্থী যাত্রা কমেছে। ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫,২৩৪ ছিল, যা ২০২৩ সালে কমে ৯,২৭৫ হয়েছে, প্রায় ৩৯ শতাংশ হ্রাস। একই সঙ্গে হোম অফিসের নতুন নীতি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ভিসার আবেদনকেও সীমিত করছে।
হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে ভিসা ব্যবস্থার যথাযথতা রক্ষা এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীকে সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নতুন নিয়মের লক্ষ্য একটাই—শুধু প্রকৃত শিক্ষার্থীরাই যেন যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের দায়িত্বের সঙ্গে শিক্ষার্থী বাছাই করে।