মধ্যপ্রাচ্য সংকট: এবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরী

মধ্যপ্রাচ্য সংকট:  এবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ব্রিটিশ  বিমানবাহী  রণতরী

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৭ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য তাদের বিমানবাহী রণতরী HMS Prince of Wales–কে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় আনছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে পোর্টসমাউথে নৌবাহিনীর কর্মীরা জাহাজটির প্রস্তুতি জোরদার করেছে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

স্কাই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, রণতরীটির ‘নোটিস টু মুভ’ ১০ দিন থেকে কমিয়ে ৫ দিনে আনা হয়েছে—অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে এটি আগের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত সমুদ্রে নামতে পারবে। মোতায়েন হলে জাহাজটিকে অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও একটি সাবমেরিন এসকর্ট করবে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই HMS Dragon, অতিরিক্ত টাইফুন ও F‑35 জেট, ড্রোন-বিধ্বংসী ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার এবং সাইপ্রাসে অতিরিক্ত ৪০০ সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে। ব্রিটিশ জেটগুলো জর্ডান, কাতার ও সাইপ্রাসের আকাশে টহল দিচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে “নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযান” শুরু করেছে। গ্লুচেস্টারশায়ারের RAF Fairford–এ একের পর এক B‑1 Lancer বোমারু বিমান অবতরণ করছে।

 রাজনৈতিক চাপের মুখে স্টারমার সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করার অভিযোগে কনজারভেটিভদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সমালোচনার জবাবে সরকার অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও নজরদারি হেলিকপ্টার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফেরত আনা হচ্ছে

সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে আনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ভোরে গ্যাটউইকে দ্বিতীয় চার্টার্ড ফ্লাইট পৌঁছেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬,৫০০–এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিক দেশে ফিরেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ১,৬০,০০০–এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিক তাদের উপস্থিতি নিবন্ধন করেছেন।