ইরানের নতুন ঘোষণা: “যারা আমাদের আক্রমণ করবে না, তাদের আমরা আক্রমণ করব না” 

ইরানের নতুন ঘোষণা: “যারা আমাদের আক্রমণ করবে না, তাদের আমরা আক্রমণ করব না” 

ভয়েস অব পিপল বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৭ মার্চ:

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন যে পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলো যদি ইরানকে আক্রমণ না করে, তবে ইরানও তাদের ওপর হামলা চালাবে না

এই বক্তব্য প্রথম নজরে কূটনৈতিক টোনের বড় পরিবর্তন বলে মনে হলেও এর বাস্তব অর্থ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র পরে স্পষ্ট করে বলেন—

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকবে
  • যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে “ঘাঁটি বা আকাশসীমা” ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তারা ঝুঁকির বাইরে নয়
  • তবে যারা কোনো সুবিধা দেয়নি, তাদের ওপর হামলা চালানো হবে না

অর্থাৎ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি থাকা অবস্থায় ইরানের অবস্থান কতটা বদলেছে—তা এখনো অস্পষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরান সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোকে শত্রু বানাতে চায় না, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা হলে পরিস্থিতি বদলে যাবে।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে ইরানের ‘ক্ষমা প্রার্থনা’

পেজেশকিয়ান প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক পাশে থাকতে চায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা আত্মরক্ষার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে
  • কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনা বা অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনে ন্যায্যতা পায় না

ইরানের এই অবস্থান পরিবর্তন কূটনৈতিক চাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
ওমান, তুরkiye, কাতার—যারা ইরানের ঘনিষ্ঠ—তারাও তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে।
কিছু ফোনালাপকে কূটনৈতিক মহল “উত্তপ্ত” বলে বর্ণনা করেছে।

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের পর—

  • যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে
  • যুক্তরাজ্য দ্রুত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে
  • উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে
  • ইরান সামরিক অবস্থান বজায় রেখে কূটনৈতিক ভাষা নরম করছে
  • ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে আনা হচ্ছে

সংঘাতের শুরু থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৬,৫০০–এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিক দেশে ফিরেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ১,৬০,০০০–এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিক তাদের উপস্থিতি নিবন্ধন করেছেন।

যুদ্ধ, কূটনীতি ও অনিশ্চয়তার মাঝখানে মধ্যপ্রাচ্য

একদিকে ইরানের নতুন কূটনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক অভিযান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত রাখা, মার্কিন বোমারু বিমানের আগমন হয়েছে শুক্রবার ব্রিটেনে। সুতরাং আলামত বেশি ভাল মনে হচ্ছে না।