তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ফুটপাত দখল করে ই-বাইক পার্কিং বন্ধে কঠোর হচ্ছে ব্রিটেন, আসছে নতুন নিয়ম
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :
ব্রিটেনের রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র বৈদ্যুতিক সাইকেল (ই-বাইক) পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে লন্ডনে ভাড়ায় চালিত লাইম, ফরেস্ট ও ভয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সাইকেল যেখানে-সেখানে ফেলে রাখার কারণে পথচারীদের চলাচলে যে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে, তা বন্ধ করতে নতুন জাতীয় নীতিমালা প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর পরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাড়ায় চালিত ই-বাইক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। কোথায় সাইকেল রাখা যাবে, কতসংখ্যক সাইকেল রাস্তায় নামানো যাবে এবং কোন এলাকায় সেবা পরিচালিত হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে।
নতুন প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—
১. নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা: ফুটপাত বা পথচারীদের চলাচলের জায়গা আটকে সাইকেল রাখা যাবে না। নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় সাইকেল রাখার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
২. প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নিতে হবে: ভাড়ায় সাইকেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
৩. সাইকেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: কোনো এলাকায় কতসংখ্যক ভাড়ার সাইকেল রাখা যাবে, তার সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে রাস্তা ও ফুটপাতে অতিরিক্ত সাইকেলের জটলা কমবে।
৪. বেপরোয়া চালনায় ব্যবস্থা: নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সাইকেল চালানো, ফুটপাতে সাইকেল চালানো এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৫. বীমার বাধ্যবাধকতা: ভাড়ার সাইকেলের ধাক্কায় কেউ আহত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
৬. তথ্য ও নজরদারি: সাইকেল কোথায় চলছে, কোথায় রাখা হচ্ছে এবং কতগুলো সাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার নিয়ম চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
লন্ডনে বর্তমানে বিভিন্ন বরো বা কাউন্সিল নিজস্ব নিয়মে ভাড়ার ই-বাইক পরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এক এলাকায় যে নিয়ম কার্যকর, অন্য এলাকায় তা ভিন্ন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে মেয়র সাদিক খান ও পরিবহন মন্ত্রণালয় ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনকে (টিএফএল) পুরো রাজধানীতে একক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।
লন্ডন কাউন্সিলসও নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ফুটপাত আটকে সাইকেল পার্কিং বন্ধ করা এবং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কোন এলাকায় কতসংখ্যক সাইকেল চলবে এবং কোথায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, সে সিদ্ধান্তে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের এই প্রস্তাবের ওপর জনমত গ্রহণ চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। এরপর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা ও বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং শিশুদের নিয়ে চলাচলকারী অভিভাবকদের ফুটপাত ব্যবহারে ভোগান্তি কমতে পারে। তবে আপাতত এগুলো প্রস্তাবিত নিয়ম; চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।